পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর ও সদ্য সাবেক পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদসহ ৪২ জন দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কেয়ারটেকার মোস্তফা আকন বাদি হয়ে রোববার দুপুরের দিকে পটুয়াখালী সদর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শোয়েব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন চৌধুরী, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আরিফসহ অন্যান্যরা।
আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাদি মোস্তফা আকন কলেজ রোডস্থ বনানী এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ে গেলে আসামিরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু বাদি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাকে মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন এবং এক সপ্তাহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আসামিদের হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের ভয়ে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।
সদর থানার ওসি মোহাম্মদ জসীম জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলা রুজু হয়েছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।
এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. হাসান সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ভূঁইয়াসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রোববার দুপুরে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতে অপর একটি মামলা হয়েছে।
শহরের সদর রোড এলাকার ব্যবসায়ী মেসার্স রশ্মি ইলেকট্রনিক্সের মালিক রেজাউল হক বাচ্চু এ মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন তিনি।
সাবেক পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, পটুয়াখালীবাসীর সুখ-দুঃখে, শহরের উন্নয়নে এবং সকল ভালো কাজে আমরা ছিলাম। আমাদের ভালো কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গ্রুপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানির জন্য মামলা করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তথাকথিত রাজনৈতিক দলের ওপর মানুষের আস্থা নেই: সারজিস