লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে দখলদার ইসরাইল। জবাবে ইসরাইলজুড়ে সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এসব হামলায় শুধুমাত্র দুইদিনে ইসরাইলের আনুমানিক চার বিলিয়ন শেকেল (ইসরাইলি মুদ্রা) বা এক দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানিয়েছে, গেলো দুইদিনে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এবং হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণে ইসরাইলের এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে।
তেল-আবিব ভিত্তিক নিরাপত্তা পরিষেবা শিন বেটের একজন সাবেক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো বলেছে, মধ্য ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার বিষয়ে হিজবুল্লাহর সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। এসব হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে নেতানিয়াহু সরকার।
গেলো এক সপ্তাহে জায়নবাদীদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদরদপ্তরসহ ইসরাইলজুড়ে অসংখ্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এসব হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম এবং অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ইসরাইল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন, মাউন্ট হারমন থেকে আরাভা উপত্যকা পর্যন্ত ইসরাইলের কোনো এলাকাই যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে নেই। এসব এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।
অবসরপ্রাপ্ত ইসরাইলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং সেনাপ্রধানের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রিম অ্যামিনোচ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ইসরাইলের দৈনিক অপারেশনাল খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে মুহূর্তে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে, ঠিক তখন থেকেই খরচ বাড়তে শুরু করছে।
এ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ খরচ প্রায় ১৩০ বিলিয়ন শেকেল উল্লেখ করে অ্যামিনোচ বলেন, কিন্তু পরোক্ষ খরচ যোগ করা হলে তা প্রায় ২৫০ বিলিয়ন শেকেলে পৌঁছতে পারে।
নেতানিয়াহু সরকারকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তা সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত। 
এদিকে ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (কেএএন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেলো সোমবার লেবাননে হামলা চালাতে ইসরাইল প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন শেকেল বা ১৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। টানা হামলায় একই হারে অর্থ খরচ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ ইসরাইলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যার ফলে ভবিষ্যতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আরও জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়বে।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে হিজবুল্লাহ। এর জেরেই লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে দখলদার ইসরাইল। নিহতের সংখ্যা এরইমধ্যে সাতশ ছাড়িয়েছে। অন্তত পাঁচ হাজার লেবানিজ গুরুতর আহত হয়েছেন।
তাইওয়ানের আশপাশে চীনের ২৯ সামরিক বিমান ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত
এবার লেবাননে ঢুকে হামলার হুমকি দিলো ইসরাইল