গণমুখী ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে, প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো পুলিশ আইন সংস্কারের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন। তিনি বলেন, বেঁধে দেয়া সময় তিনমাসের মধ্যে সব পর্যায়ের মানুষের মতামত নেয়া হবে। প্রয়োজনে ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হবে। পুলিশকে জনগণের আস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
রোববার সকালে সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
সফর রাজ হোসেন বলেন, আমরা কাজ শুরু করেছি। গত কয়েক দিন ইনফরমাল আলোচনা করেছিলাম যে আমরা কী করবো। মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এই কয়দিনে আমরা পুলিশের আইনি তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। তাছাড়া আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি। আইনের অধ্যাপক আছেন। সবাই বসে ওয়ার্ক প্ল্যান করবো।

পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবারই মতামত নেওয়া হবে। সময় পেলে ওয়েব সাইট তৈরি করে জনসাধারণের মতামতও নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ১৫০ বছরের পুরোনো পুলিশ আইনের কিছু ধারা সংস্কারে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংস্কারের কোন জায়গাটায় গুরুত্ব দেয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ১৮৬১ সালের সেই পুলিশ আইনসহ অনেক পুরোনো আইনের তো তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। পুলিশ আইন আধুনিকায়ন করা উচিত। পুলিশ যাতে জনবান্ধব হয় সেটা নিয়ে কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের মুখ্য উদ্দেশ্যই যেন হয় জনগণকে সেবা দেওয়া। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশ কীভাবে কাজ করে সে ধারণাগুলো আমরা নেবো। এরপর সংস্কারে সুপারিশ করবো।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব) বলেন, এই পুলিশ সংস্কার কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। তারা যেসব সহযোগিতা চান সব সহযোগিতা দেবে সরকার। বেঁধে দেওয়া সময়ে প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব বলে আশা রাখি।
উল্লেখ্য, জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছে।
সফর রাজ হোসেনকে প্রধান করে পুলিশ সংস্কার কমিশনে সদস্য হিসেবে রয়েছেন জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইকবাল, সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক শেখ সাজ্জাদ আলী, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ গোলাম রসুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, মানবাধিকার কর্মী এ এস এম নাসিরউদ্দিন এলান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ৩৯ প্রভাবশালী গ্রেপ্তার
ধানমন্ডিতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য গ্রেপ্তার