তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতের গোয়ালিয়রের মাঠে ৭ উইকেটে হেরেছিলো শান্তরা। তাই সিরিজ বাঁচাতে আজ জয়ের বিকল্প ছিলো না বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না শেষ রক্ষা। ৮৬ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করলো ভারত।
বুধবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান করে ভারত।
বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিলো ২২২ রানের। জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা খারাপ ছিলো না শান্তদের। ইনিংসের প্রথম ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারে আর্শদীপের বলে ইন সাইড এজে বোল্ড হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। ১২ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৭ বলে ১১ রান।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হন লিটন দাস। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১ বলে ১৪ রান। ব্যর্থ হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়ও। সপ্তম ওভারে অভিষেক শর্মার বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ৬ বলে খেলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তুলার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি মিরাজ। এক প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ স্থির থাকলেও অন্য প্রান্তে দাঁড়াতে পারেনি কেউই। সাতে নেমে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি জাকের আলি অনিকও।
শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৪১ রান। তাতে একশ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ১৩৫ রান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মেহেদি হাসান মিরাজের প্রথম ওভারে ১৫ রান তুলে নেয় ভারত। তবে দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তাসকিন আহমেদের বলে মিড অফে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন সানজু স্যামসন। ৭ বলে ১০ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
প্রথম উইকেটের পর দ্বিতীয় উইকেট হারাতেও সময় লাগেনি ভারতের। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আবারও উইকেট হারায় ভারত। এবার সাজঘরের পথ ধরেন আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার অভিষেক শর্মা। তানজিম সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে যান। ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১৫ রান।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মুস্তাফিজুর রহমানের কাটারে শান্তর হাতে ধরা পড়েন তিনি। ডানহাতি এই ব্যাটার করেন ১০ বলে ৮ রান। ভারতের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৪১ রান।
তবে পরপরই বদলে যায় ম্যাচের সমীকরণ। নিতিশ রেড্ডি ও রিংকু সিংয়ের অবিশ্বাস্য এক জুটিতে বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকে ভারত।
এই দুই ব্যাটার গড়েন ৪৯ বলে ১০৮ রানের বিশাল জুটি। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূরণ করেন নিতীশ। ২১৭.৬৪ স্ট্রাইক রেটে ৩৪ বলে ৪টি চার ও ৭ ছক্কায় ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নেন এই ব্যাটার।
ফিফটি পেয়েছেন রিংকুও। সাজঘরে ফেরার আগে ২৯ বলে ৫৩ রান করেছেন এই হার্ডহিটার।
এরপরও রানের চাকা থেমে থাকেনি ভারতের। ১৯ বলে ৩২ রান এসেছে হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাট থেকে। আর শেষ দিকে পরাগ ৬ বলে করেছেন ১৫ রান।
বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন রিশাদ হোসেন। তাছাড়া ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম সাকিব ও তাসকিন আহমেদ।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ভারতের