মার্কিন রাজনীতিতে কমলা হ্যারিসের উত্থান যেভাবে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম

কমলা দেবী হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। একই সাথে তিনি প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান এবং প্রথম এশিয়ান আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট। আর এই ক্যাটাগরিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। আর জিতে গেলে একই ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টও হবেন তিনি। 

কমলার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাঁর মা শ্যামলা গোপালন ছিলেন ক্যানসার গবেষক। ২০০৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। কমলার বাবা ডোনাল্ড হ্যারিসের জন্ম জ্যামাইকায়। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। খুব কম বয়সেই কমলার মা–বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিলো।

হ্যারিস বরাবরই নিজের কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি নিজেকে ‘আমেরিকান’ বলে সব সময় বর্ণনা করেন। ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টকে কমলা বলেন, আমি যা আমি তাই। আমি এর সঙ্গেই ভালো মানায়। আপনাকে এটা খুঁজে দেখতে হলেও আমি এতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি।

ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত কমলা হ্যারিস হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৩ সালে হ্যারিস প্রথমবার নির্বাচনে জেতেন এবং সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচিত হন। তিনি ২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন।

কমলা ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও অ্যাটর্নি জেনারেল থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমালোচক ছিলেন কমলা।

দুই বছরের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করার সময় হ্যারিস ডেমোক্রেটিক পার্টির উঠতি তারকা হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাইক পেন্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রথমে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, পরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হেস্টিংস কলেজ অব দ্য ল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় আলমেদা কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিসে। পরে তিনি সান ফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে এবং পরে সান ফ্রান্সিসকোর সিটি অ্যাটর্নি অফিসে নিয়োগ পান। 

২০০৩ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকোর জেলা অ্যাটর্নি নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। কমলা হ্যারিস ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। 

তিনি ২০১৬ সালের সিনেট নির্বাচনে লরেটা সানচেজকে পরাজিত করে দ্বিতীয় আফ্রিকান আমেরিকান মহিলা এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কাজ করেন। সিনেটর হিসেবে, তিনি স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, গাঁজার ফেডারেল ডি-শিডিউলিং, অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্বের উপায়, ড্রিম অ্যাক্ট, অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্স সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন। 

কমলা হ্যারিস ২০২০ সালে ডেমোক্রেটিক রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রথম দিকেই নির্বাচনের দৌড় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। বাইডেন তাকে ২০২০ সালের আগস্টে তার রানিং মেট হিসাবে নির্বাচিত করেন। তিনি ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কর্মজীবনে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। ২০০৫ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ২০ জন নারীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে নিউজউইক। একই বছর তাকে থারগুড মার্শাল অ্যাওয়ার্ড দেয় ন্যাশনাল ব্ল্যাক প্রসিকিউটরস অ্যাসোসিয়েশন। 

এছাড়াও ২০১৩, ২০ ও ২১ সালে তিনি টাইম হানড্রেডে অন্তর্ভূক্ত হন। এর মধ্যে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে যৌথভাবে টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন কমলা হ্যারিস। 

একাত্তর/এসি
কয়েক দশক ধরে ইরান তার বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে মুসলিম বিশ্বের রক্ষক হওয়ার আখ্যান তৈরি করেছে। তেহরান নিজেকে ধারাবাহিকভাবে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা ইসলামি দেশগুলোর ওপর...
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল এমন এক জটিল ও দূরপাল্লার...
দেখতে দেখতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তিধর দেশ রাশিয়ার ক্ষমতায় ২৫ বছর পার করলেন ভ্লাদিমির পুতিন। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্ব পান তিনি।
সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটি জুড়ে চলছে ক্ষমতা দখলের ভয়ানক খেলা। দেশটির অধিকাংশ জনগণই প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানালেও, আগামীতে তাদের স্বার্থ বড়...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর