রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে রাশিয়া। ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটাই রাশিয়ার রাজধানীতে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন শহরের মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন একথা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হামলায় কমপক্ষে ৩৪টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ড্রোনকে ভূপাতিতের দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, রাশিয়া শনিবার ও রোববার রাতে মস্কোকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত ইউক্রেনের ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
টেলিগ্রামে পোস্টে তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ২৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে তিনি ২২টি ড্রোনের কথা বলেছিলেন তিনি। সোবিয়ানিন বলেন, বেশিরভাগ ড্রোন মস্কোর দক্ষিণে রামেনস্কয় ও ডোমোদেডোভো অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। এর ফলে তিনটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।
কিয়েভের এই হামলার কারণে মস্কোর তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনেক ফ্লাইট অন্যান্য বিমানবন্দরের দিকে পাঠানো হয়। এ ছাড়া এই হামলায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন। তবে কিয়েভের এই ব্যাপক ড্রোন হামলায় আর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার ফেডারেল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি জানিয়েছে, দোমোদেদোভো, শেরেমেতিয়েভো, ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরের অন্তত ৩৬টি ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পরে বিমানবন্দরগুলো আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া মস্কোয় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে তিন ঘণ্টায় আরও ৩৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। রাশিয়ান ফেডারেশনের ভূখণ্ডে বিমানের মতো ড্রোন ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য কিয়েভ রেজিমের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
একটি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের জন্য সোচির কৃষ্ণ সাগর রিসোর্টে প্রায় ৫০ আফ্রিকান দেশের কূটনীতিক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাশিয়া আতিথ্য দেওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংসের খবর দেয়। তবে রাজধানীকে লক্ষ্য করে খুব কমই হামলা চালানো হয়।
এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনে এক রাতে রেকর্ড ১৪৫টি ড্রোন দিয়ে কিয়েভে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এর মধ্যে ৬২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের একটি অস্ত্রাগারে আক্রমণ চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনের ব্যবহৃত ১৪টি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে রাশিয়া।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রস্তাব অনুসারে, রাশিয়া ওই ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে একটি ৮০০ মাইল দীর্ঘ বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করবে ইউরোপীয় ও ব্রিটেনের সেনারা।
প্রস্তাবটি এমন সময়ে সামনে এল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপকে রক্ষা করতে গিয়ে রাশিয়াকে তুষ্ট করার চেষ্টা আত্মহত্যার নামান্তর হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মূলত রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কঠোরভাবে নাকচ করেছেন।
