আদানিকাণ্ডে তোলপাড় পুরো বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ভারতের এই অন্যতম শীর্ষ শিল্প গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে প্রভাব পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানটির ১৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে, যার মধ্যে বন্দর পরিচালনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিও রয়েছে। শুধু তাই নয় আদানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে দেশে-বিদেশে বিস্তৃত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্যবসার ওপরেও। একদিনেই আদানি গ্রুপ ৩,৪০০ কোটি ডলারের বাজার হারিয়েছে শেয়ারবাজারে।
আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পুরো বিষয়টি এরই মধ্যে আদানি গোষ্ঠীর পাশাপাশি ভারতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বাজার মূল্য খুইয়েছে আদানি গোষ্ঠীর অধীনস্থ সংস্থাগুলো। এর ফলে তার ১০টি সংস্থার কম্বাইন্ড ক্যাপিটাল ক্যাপিটালাইজেশন বা সম্মিলিত বাজার মূলধন ১৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত বুধবার নিউইয়র্কে গৌতম আদানি ও তার সহযোগীদের অভিযুক্ত করা হয় ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে। এতে বলা হয়, লোভনীয় সরকারি কাজ পেতে তাঁরা ২৫ কোটি ডলারের বেশি ঘুষ দিয়েছেন। এরপরই তার কোম্পানির শেয়ার বিক্রির ধুম পড়ে যায়।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী গৌতম আদানিকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানান। অন্যদিকে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে করা বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ–সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করেন। এসব চুক্তির আর্থিক মূল্য ছিল ২৫০ কোটি ডলার।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সংস্থা ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’র পক্ষ জানানো হয়েছে তারা ৬০ কোটি ডলারের বন্ড অফার নিয়ে আর এগোবে না।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় অবকাঠামো ব্যবসায়ী গৌতম আদানির সঙ্গে দেশটির অর্থনীতির গভীর সংযোগ রয়েছে। তিনি ১৩টি বন্দরের ৩০ শতাংশ শেয়ার, ৭টি বিমানবন্দরের যাত্রী ট্র্যাফিকের ২৩ শতাংশ পরিচালনা করেন। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিমেন্টের ব্যবসায়ও বাজারের ২০শতাংশ তার।
আদানি গ্রুপ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ছয়টি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী আদানি গ্রুপ ভারতের এনার্জি সেক্টরের বৃহত্তম বেসরকারি খেলোয়াড়।
আদানি ভারতের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছেন। ভারতের বৃহত্তম বস্তির পুনর্নির্মাণও করছে তার গোষ্ঠী। গৌতম আদানির অধীনস্থ সংস্থাগুলো ৪৫ হাজারের বেশি লোককে নিয়োগ করলেও তার ব্যবসা কিন্তু দেশব্যাপী লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করছে।

তার বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় কয়লা খনি পরিচালনা, কেনিয়া ও মরক্কোর বিমানবন্দর পরিচালনা ও জ্বালানি প্রকল্প। তানজানিয়া এবং কেনিয়া জুড়ে একশো কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের অবকাঠামোগত প্রকল্পের উপরেও আদানি গোষ্ঠীর নজর রয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযোগ আদানির বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় একটি বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কেনিয়া ও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অধিগ্রহণ এবং একটি বিতর্কিত জ্বালানি চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি।
গৌতম আদানির উত্থান হয়েছে অনেকটা রকেটের গতিতে। একসময় তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু বিতর্ক তার পিছু ছাড়ছে না। অভিযোগ রয়েছে যে হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি সুবিধা পেয়েছেন।

গৌতম আদানি নানা খাতে তার সাম্রাজ্যের বিস্তার করেছেন। কয়লা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর, সিমেন্ট ও গণমাধ্যমে তার বিনিয়োগ রয়েছে। তাঁর স্বার্থ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভুটান, ইসরায়েল, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া ও নেপালে।
‘ওরেশনিক’ মিসাইলকে বাধা দেয়া যায় না: পুতিন