রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে পারবে না ভারত। কারণ রাশিয়ার তেল সস্তা। এমন মন্তব্য করেছেন দিল্লির অর্থনীতিবিদ বিশ্বজিত ধর। তিনি বলেন, অর্থনীতির ওপর চাপ দেয়ার কোনো যুক্তি নেই। ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত শুল্ক থেকে বাঁচতে শর্ত ছিলো রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে না ভারত। কিন্তু আদতে তা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ভারতীয় অর্থনীতিবিদরা।
ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বিশ্বজিত ধর বলেন, বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে তেল নিয়ে এরই মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এরমধ্যে রাশিয়ার সাথে বিরোধ তৈরি করে দেশের অর্থনীতিকে সঙ্কটে ফেলার কোনো যুক্তি নেই ভারতের। তাছাড়া রাশিয়ার তেল সস্তা হওয়ায় তার বিকল্পেরও দরকার নেই।
অধ্যাপক বিশ্বজিত আরও বলেন, আমার মনে হয় না ভারত রাশিয়ার তেল থেকে সরে আসতে পারবে। কারণ দামের ক্ষেত্রে আমরা সুবিধা পাচ্ছি। তাছাড়া এখন দেশের রপ্তানি খাত সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। এর মধ্যে আরেকটা ঝুঁকি নেয়ার কোনো মানে হয় না।
ভারতের ওপর শুরু থেকেই শুল্ক হার ছিলো ২৫ শতাংশ। আর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি স্বরূপ আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়। তাতে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা আছে ভারতের অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো, ভারতের রপ্তানি সীমিত হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আমদানির ক্ষেত্রেও প্রভাব হবে নেতিবাচক।
বিশ্বজিত ধর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কৃষি পণ্য আমদানি করে ভারত। যা কৃষকদের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। আমার মনে হয় না ভারত সেটাও বন্ধ করতে চাইবে। তবে এমন নয় যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে যাবেন। শেষ পর্যন্ত হয়তো সমঝোতা হবে। কারণ ভারতের অর্থনীতির ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎস এবং কৌশল নির্ধারণ করছে ভারত। যাতে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে। তাই বলে শুল্কের কারণে ভারতের অর্থনীতিতে পুরোপুরি ধস নামবে না বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পাকিস্তানের পাঞ্জাব