জ্বলছে ফিলিস্তিনের গাজা শহর। ইসরাইলি সেনাদের মুহুর্মুহু বোমা হামলায় কাঁপছে পুরো শহর। শত শত ট্যাঙ্ক ঢুকে পড়েছে গাজা সিটির আরও ভেতরে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরাইলের সাঁড়াশি স্থল হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছে আরও বহু মানুষ।
বিবিসি ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এতদিন আকাশপথে কিংবা গাজা সিটির সামান্য ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালাত নেতানিয়াহুর দেশ। কিন্তু এই প্রথম পুরোপুরি ‘গ্রাউন্ড অফেনসিভ’-এর পথ বেছে নিল ইহুদি সেনাবাহিনী। এতে গাজা সিটির দক্ষিণ দিকে ছুঁটছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
বাসিন্দারা বলছেন, ইসরাইলি সেনারা তাদের স্থল আক্রমণ বিস্তৃত করার খবরের মধ্যেই অবিরাম মঙ্গলবার সকাল থেকে বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্ধিত এ স্থল হামলায় অংশ নিয়েছে তাদের দুটি ডিভিশন। এ দুই ডিভিশনে ২০ হাজারের বেশি সেনা রয়েছে।

স্থল হামলা শুরুর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজা সিটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে দখলদার ইসরাইল। বিমান ও ড্রোন থেকে মিসাইল ও বোমা ফেলে গাজা সিটির প্রায় সব উঁচু ভবন ধসিয়ে দেয়া হয়েছে। গাজা সিটিতে স্থল হামলার আগে আশপাশের অঞ্চলগুলোতে অবস্থান নিয়েছিল ইসরাইলি সেনারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ১৬২ নম্বর এবং ৯৮ নম্বর ডিভিশন গাজা সিটিতে অবস্থান করছে এবং সেখানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে। এ দুই ডিভিশনের সঙ্গে ৩৬ নম্বর ডিভিশন পরবর্তীতে যোগ দেবে। এর মাধ্যমে গাজা সিটিতে ইসরাইলি সেনার সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বাড়বে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ধারণা গাজা সিটিতে হামাসের তিন থেকে চার হাজার যোদ্ধা রয়েছে। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করছেন, গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ তারা নিতে পারলে জিম্মিদের উদ্ধার করা যাবে। তবে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা এ হামলা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হওয়া হামলার প্রতিশোধ নিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু। তারপর থেকেই লড়াই চলছে। ইসরাইলের লাগাতার হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা গাজা। সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও তার ভবিষ্যৎ অজ্ঞাত।
যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত গাজায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি। পাশাপাশি, আহতের সংখ্যা প্রায় দুই লক্ষ। অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন চার লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, হামাসের হাতে এখনও পণবন্দি রয়েছেন বহু মানুষ। যুদ্ধ থামাতে উঠে পড়ে লাগলেও এখনও সফল হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
