যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনের ব্যয় নিয়ে উত্থাপিত অন্তর্বর্তী 'ফান্ডিং বিল' নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একমত হতে পারেননি। তাই অর্থবছরের শেষ দিনে বিলটি পাস হয়নি। এতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার আংশিক শাটডাউন (অচল) হয়ে পড়েছে।
শেষ মূহুর্তেও বিলটি অনুমোদন না হওয়ার কারণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ছাড় স্থানীয় সময় মধ্যরাতে বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব সরকারি কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের লোগোর ছবিসহ দেয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, "পূর্ণ কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত বরাদ্দের ঘাটতির কারণে জরুরি নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য ব্যতীত এই অ্যাকাউন্টটি নিয়মিত আপডেট করা হবে না।"
পােস্টে আরাও বলা হয়েছে, "এই সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী পূর্ব নির্ধারিত পাসপোর্ট ও ভিসা সার্ভিস অব্যাহত থাকবে।"
১৯৮০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ বার মার্কিন সরকারের কার্যক্রম আংশিকভাবে শাটডাউন হয়েছে। শাটডাউনের সময় সরকারি খাতের আকার উল্লেখযোগ্য হারে ছোট করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে আগের শাটডাউনগুলোর তুলনায় এবার বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
শাটডাউন হলে ফেডারেল (কেন্দ্রীয়) সরকারের হাজারো কর্মচারী কাজ হারাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কাজ থাকলেও তারা বেতন পাবেন না বলে মনে করছেন অনেকে। সামাজিক সুরক্ষার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তাও আটকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্যরা সংখ্যালঘু। কিন্তু ফেডারেল গভর্নমেন্ট ফান্ডিং বিল পাশ করানোর জন্য যে পরিমাণ ভোট প্রয়োজন, সেটাও এককভাবে রিপাবলিকানদের হাতে নেই।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি ছিলো, স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই উদ্যোগে সরাসরি উপকার পেতেন। কিন্তু রিপাবলিকানরা তা মানতে রাজি হয়নি। আর তার জেরেই সিনেটে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তাই অর্থবছরের শেষ দিনে (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেডারেল সরকার চালু রাখার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে বাজেট পাস আবশ্যিক ছিলো। ১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে বিল পাসে প্রয়োজন ছিলো ৬০টি ভোট। কিন্তু রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও ভোট পাওয়া গেছে মাত্র ৫৫টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা প্রস্তাবও ৪৭-৫৩ ভোট পাওয়ায় পাশ হয়নি সিনেটে।
রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন সহায়তা ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই সম্ভব: ইউএনএইচসিআর প্রধান