নিরাপত্তা শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এই সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনা। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দল পাওয়ার পরও উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর বিরোধিতার মুখে বিসিসিআই তাকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, আমাদের দেশের একজন সেরা ক্রিকেটারকে যখন উগ্রবাদীদের চাপে ভারত নিরাপত্তা দিতে পারেনি এবং বের করে দিয়েছে, তখন আমরা কীসের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হব যে আমাদের পুরো দল, অফিশিয়াল, দর্শক ও সাংবাদিকদের তারা নিরাপত্তা দিতে পারবে?
তিনি স্পষ্ট করেন, মোস্তাফিজের প্রতি বিসিসিআই’র আচরণ কোনো ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ নয়, বরং এটি একটি বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকি।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকেই ভারতে যেতে হবে। জানা গেছে, আইসিসির ভার্চুয়াল সভায় এ নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ১২টি পূর্ণ সদস্য ও ২টি সহযোগী দেশের মধ্যে ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ১২-২ ব্যবধানে হেরে যায়।
শুধুমাত্র পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়। এরপর আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়।
আইসিসির আলটিমেটাম পাওয়ার পর ক্রিকেটারদের মনের অবস্থা বুঝতে এবং সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে লিটন দাস, শামীম হোসেন পাটোয়ারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি জানান, ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার কথোপকথন ব্যক্তিগত, যা তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন না।
তিনি বলেন, সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ক্রিকেটারদের জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আর্থিক ক্ষতির (আইসিসি রেভিনিউ) চেয়ে ক্রিকেটার ও নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা এবং জাতীয় মর্যাদা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিবি বারবার অনুরোধ করেছিল, যাতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হয়। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখান করেছে। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন না করে সুবিচার করেনি। আমি আশা করি, তারা এখনো বিষয়টি বিবেচনা করে সঠিক বিচার করবে।
মাথা নত করে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উগ্রবাদের আস্ফালন বিবেচনায় নিয়ে কোনো অবস্থাতেই দলকে ভারতে পাঠানো হবে না। এর আগে ভারতের উগ্রবাদী আচরণের প্রতিবাদে দেশটিতে আইপিএল সম্প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিলো পাকিস্তান
বাংলাদেশের আবেদন যে যুক্তিতে নাকচ করলো আইসিসি