ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তেহরানের বিধ্বংসী পাল্টা হামলার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আইআরজিসি’র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী নায়েইনি সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের সমীকরণ এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েইনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোকে ‘মিথ্যাচার’ এবং ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন সেনাদের চরম হতাশা আর যুদ্ধের প্রবল চাপ থেকে বাঁচতে ট্রাম্প দাবি করছেন যে, ইরানের সামরিক শক্তি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো।
আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প দাবি করছেন হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন জাহাজগুলো অনায়াসে চলাচল করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং ফাইটার জেটগুলো ইরান সীমান্ত থেকে ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে।
মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পেরে সেনারা এখন শহরের বিভিন্ন হোটেল এবং আবাসিক এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন নায়েইনি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলি সেনারা নিজেদের বাঁচাতে সাধারণ মানুষ এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইরানের ওপর চলমান আগ্রাসনের কড়া জবাব দিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েইনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান ও তার অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের উদ্দেশ্যে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প যুদ্ধের সূচনা করলেও এর সমাপ্তি ঘোষণা করার ক্ষমতা তার নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইআরজিসি মুখপাত্র। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই সংঘাত কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা আগ্রাসনকারীরা নয়, বরং ইরানই নির্ধারণ করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইআরজিসির এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
নেতানিয়াহুর বাড়িতে কি সত্যিই আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল?
ইসরাইলি বাহিনীর যোগাযোগ কেন্দ্র গুড়িয়ে দেয়ার দাবি ইরানের