যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক হামলার জন্য তারা আবারও ফিরে আসতে পারে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে তার নির্ধারিত প্রাইমটাইম ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। সংঘাতটি পঞ্চম সপ্তাহে পদার্পণ করায় এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশের ভেতরে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র ও ন্যাটোর প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যখন আমাদের তাদের প্রয়োজন ছিলো, তখন তারা বন্ধু ছিলো না। এটা একটা একতরফা সম্পর্ক। হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো সহায়তা করতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করছেন বলে জানান।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ফলে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড়ো ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। প্রথম দফার বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, মোজতবা খামেনি হামলায় আহত এবং তার চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, আমার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিলো না, কিন্তু যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি তা ঘটিয়ে দিয়েছে। এখন ইরানের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানুষ। তাদের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তারা আর বিস্ফোরণের শিকার হতে চায় না।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা ছিলো এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ট্রাম্প দাবি করেন, সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে এবং ইরান এখন অস্ত্র তৈরিতে অক্ষম।
মাটির গভীরে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পর্কে তিনি বলেন, ওটা মাটির এতো গভীরে আছে যে, আমি তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সবসময় এর ওপর নজর রাখবো।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে, যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কথা বলছেন।
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন যে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দ্রুত শেষ হওয়া উচিত। এরই মধ্যে ট্রাম্প সরাসরি কোনো সময়সীমা না জানালেও বললেন, ‘আমরা বেশ দ্রুতই বেরিয়ে যাবো।’
যুদ্ধটি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সবার নজর ট্রাম্পের আসন্ন ভাষণের দিকে।
