নোয়াখালী পৌর এলাকায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসনিয়া (১৪) হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে (৩৩) দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছে আদালত। একই সাথে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি আব্দুর রহিম রনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, অদিতা হত্যা মামলায় আদালত আসামি সাবেক গৃহশিক্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছে। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী অদিতার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিলো। এ ঘটনা পুরো জেলা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার দিন রাতে অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ঘটনার কিছুদিন আগ থেকে অদিতা রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন এবং পালিয়ে যান। আটকের পর রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।
বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে বাঁচলো মেয়ে
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ট্রাক ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার সাত