ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা শুরু করেছেন ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আলোকপাত করছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৈরি করা অন্যান্য বড় বড় হুমকিগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই চুক্তির খসড়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিটি মোটেও ভালো নয়। এমনকি যদি একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ইরান থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়েও নেয়া হয়, যা নিজেই একটি বড় ধরনের ‘যদি’র বিষয়, তবুও এই চুক্তি ইরানের বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের (সশস্ত্র গোষ্ঠী) হুমকির কোনো সমাধান করছে না।
হুমকির পাশাপাশি জেরুজালেমের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আরেকটি বড় ভয় কাজ করছে। তারা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযান চালানোর স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন ইসরাইলি কর্মকর্তা প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টকে বলেন, যদিও এখনো কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যা এই অঞ্চলে আমাদের সামরিক অপারেশন চালানোর সক্ষমতা এবং কৌশলের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, আমেরিকার এই কূটনৈতিক চালকে ইসরাইল তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি অস্বীকার করলো ইরান