আর মাত্র দুই দিন পরেই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো। কিন্তু এই মেগা ম্যাচের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে মরক্কো শিবিরে নেমে এল এক চরম বিপর্যয়।
ইনজুরির অভিশাপে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন দলটির রক্ষণভাগের স্তম্ভ নায়েফ আগুয়ের্দ এবং আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র আবদে ইজ্জালজুলি। টুর্নামেন্ট শুরুর এই অন্তিম মুহূর্তে দুই প্রধান তারকার বিদায় মরক্কোর ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ শিবিরকে এক বড়সড় ও জম্পেশ ধাক্কা দিল।
ফিফার পোর্টালে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেছে এবং ২৬ সদস্যের মূল স্কোয়াডে তাদের বিকল্প হিসেবে মারওয়ানে সাদানে এবং আমিনে এসবাই’র নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেওয়া মরক্কো এবারও বড় স্বপ্ন নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছিল। বিশেষ করে গত মার্চে সেনেগালের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ফাইনালের রায় নিজেদের পক্ষে আসায় আফ্রিকা কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়নের তকমা মাথায় নিয়ে তারা বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ভাগ্য যেন তাদের সাথে রসিকতা করল।
মার্সেই-এর তারকা ডিফেন্ডার নায়েফ আগুয়ের্দ গত মার্চ মাস থেকেই ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্বকাপের আগে সম্পূর্ণ ফিট হতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই স্কোয়াড থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক মারওয়ানে সাদানেকে, যিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল ফাতেহ-এর হয়ে খেলেন।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে উইঙ্গার আবদে ইজ্জালজুলিকে ঘিরে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে নিজেদের সতীর্থ চাদি রিয়াদের সাথে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের শিকার হন রিয়াল বেতিসের এই উইঙ্গার। ডান পায়ের সেই গুরুতর ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাঁর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তে গেল। অথচ সদ্য সমাপ্ত মরশুমে বেতিসের হয়ে ১৫টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট করে ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুলেছিলেন তিনি।

এই ফর্মের কারণে নিউক্যাসল ইউনাইটেড, চেলসি এবং অ্যাস্টন ভিলার মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্টরা তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য টাকার বস্তা নিয়ে তৈরি ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বমঞ্চে নিজেকে চেনানোর পরিবর্তে ইজ্জালজুলিকে এখন গ্যালারিতে বসে স্রেফ দর্শকের ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর জায়গায় স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন অ্যাঙ্গার্স-এর উইঙ্গার আমিনে এসবাই।
মরক্কো এবার রয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন গ্রুপ ‘সি’-তে। আগামী শনিবার নিউ জার্সিতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মহারণ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড এবং ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি।
১৯৮৬ সালের পর ২০২২ সালে নিজেদের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছিল মরক্কো, যেখানে তারা সেমিফাইনাল খেলে ফুটবল দুনিয়ায় রূপকথা লিখেছিল। তবে এবার ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নামার ঠিক আগমুহূর্তে দুই স্তম্ভকে হারানোয় সেই রূপকথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো মরক্কোর জন্য এক প্রকার হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে!
