পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব অস্থিরতার মাঝে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রোববার পাকিস্তানের সংবিধানের দুটি বিশেষ অনুচ্ছেদের অধীনে এই সিদ্ধান্ত জারি করা হয়, যা প্রদেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সরাসরি কেন্দ্র সরকারের হাতে তুলে দেয়। এর ফলে কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চালিত প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার কার্যকর অবসান ঘটল।

ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পর এই সুপারিশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, তিনি মন্ত্রিসভার দেয়া সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত থাকায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি ঘটায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে প্রাদেশিক সরকারের কিছু বা সমস্ত দায়িত্ব কেন্দ্র নিজের হাতে নিতে পারে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ঠিক পরপরই বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতা জুনাইদ আকবর নিশ্চিত করেছেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি এবং প্রদেশের দলীয় সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি থাকা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ'-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল পিটিআই। এই মার্চ রুখতে দীর্ঘদিন ধরেই কন্টেইনার বসিয়ে রাজধানীর সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখছিলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন। সেই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রদেশটিতে চরম আঘাত হানলো শরিফ সরকার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকারের এই অসংবিধানিক সিদ্ধান্ত দেশে অতিরিক্ত রক্তপাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরোক্ষ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা থাকলেও সরকার যে আদতে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় যেতে চায়নি, এই জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়েই তা পরিষ্কার হয়ে গেল। এর ফলে পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংঘাত আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
