চেক চুরি ও সই জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর মামলায় লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার বিকেলে জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম রায়পুর উপজেলার উদমদমারা গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলীর স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, হুমায়ুন কবির হাওলাদার আত্মীয়তার সুবাদে মরিয়ম বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দারগঞ্জ শাখায় তাঁর ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা একটি চেক গোপনে চুরি করে নিয়ে যান। এরপর ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা অঙ্ক বসিয়ে মরিয়ম বেগমের সই জাল করে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে জমা দেন অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির।
তবে ব্যাংকে চেক জমা দেওয়ার পর সইয়ে অমিল ও সন্দেহ দেখা দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক মরিয়ম বেগমকে বিষয়টি অবহিত করে। এ ঘটনার পর মরিয়ম বেগমের স্বামী ইউসুফ আলী বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডির বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, চেকে থাকা সইটি মরিয়ম বেগমের নয়; বরং সেটি জাল করা হয়েছে এবং সইটি হুমায়ুন কবিরেরই। সিআইডির এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রোববার নির্ধারিত দিনে আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির হাওলাদার। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. হাসান ও মিজানুর রহমান মুন্সীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, আদালতের পক্ষ থেকে তাঁকে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা সাত দিনের সময়ও প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু বাদীপক্ষ তাৎক্ষণিক আইনি প্রতিকার চাওয়ায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আদালত জামিন আবেদন খারিজ করায় মামলার অপর পলাতক আসামি আব্দুস শহীদের পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্ত সাবেক এই আইনজীবী নেতাকেও কারাগারে পাঠানো হলো।
৮৫ বছরের অসহায় বৃদ্ধ ও চার এতিম শিশুর পাশে প্রশাসন
বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ
নেত্রকোনায় বিদ্যুতস্পৃষ্ট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো আরেক ভাইয়েরও