মাঝ আকাশে উড়ানের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এক বাংলাদেশি শিশু। এরপর ভারতের নাগপুরে উড়ানের জরুরি অবতরণের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ রক্ষা হলো না। তিনদিন পর বৃহস্পতিবার মারা যায় ১৫ মাস বয়সী শিশুটি।
জানা গেছে, গত রবিবার রাতের দিকে বাবা-মায়ের সাথে ভিস্তারা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে করে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি যাচ্ছিল শিশুটি। কিন্তু হঠাৎ করেই অসুস্থতা বোধ করে সে। উড়ানের গতিপথ ঘুরিয়ে রাতেই নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়।
এরপর বিমানবন্দর থেকেই নাগপুরের একটি বেসরকারি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে (কেআইএমএস-কিংসওয়ে) তাকে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে শারীরিক জটিলতা আরও বাড়তে থাকে এবং মৃত্যু হয় শিশুটির।
উড়ানের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া শিশুটি সিলেটের বাসিন্দা। বাবা-মা'য়ের কোলেই অচেতন হয়ে পড়ে সে। এসময় সহযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) ব্যবস্থার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন।
সহযাত্রীদের মধ্যে দিল্লির 'অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস' (এইমস) এর পাঁচ চিকিৎসকও ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনবরত প্রচেষ্টায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি। এরপর নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পরে শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় ওই বেসরকারি হাসপাতালে।
নাগপুরের বেসরকারি হাসপাতাল কেআইএমএস-কিংসওয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এজাজ শামি (ব্র্যান্ডিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন) জানান, তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, বিমানের ভেতর এবং হাসপাতালে নিয়ে আসার পর থেকে তাকে অচেতন অবস্থা থেকে পুনরুজ্জীবিত করার একাধিকবার প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালের সকলে মিলে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি।
শিশুটি কিডনি এবং কার্ডিয়াক ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন শারিরীক জটিলতায় ভুগছিল বলেও জানান এজাজ শামি। একটা সময় পর তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে শিশুটির হৃদরোগের অস্ত্রোপচার হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, শুক্রবারই শিশুটির মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ ফিরে যাবেন তার বাবা-মা। এরইমধ্যে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সমস্ত আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে। নাগপুর থেকে দিল্লি হয়ে বাংলাদেশের সিলেটে নিয়ে যাওয়া হবে ওই শিশুটিকে।
মেঘনার ভাঙন থামছে না, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার