এশিয়ার বাজারে দ্রুতগতিতে বাড়ছে চালের দাম। ১৫ দিনের ব্যবধানে টনে বেড়েছে ৭০ ডলার আর দেড় মাসের কম সময়েই বেড়েছে ১৩০ ডলার। থাইল্যান্ডে প্রতি টন ভাঙ্গা সেদ্ধ ভাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪৮ ডলার। যা ১৫ বছরের সর্বোচ্চ।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধান উৎপাদনকারী দেশে ভারতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর বৈরি আবহাওয়ায় থাইল্যান্ডে উৎপাদন কমার কারণে চালের বিশ্ববাজার এখন অস্থির।
বিশ্বের বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক ভারত, সম্প্রতি চাল রপ্তানিতে কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে। আরেক বড় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক থাইল্যান্ডেও এবার উৎপাদন কমেছে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে।
তাই বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহে ঘাটতির শঙ্কায় আছেন আমদানিকারকরা। এই শঙ্কার কারণেই এশিয়ার বাজারে চালের দাম ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।
জুনের ২৮ তারিখে থাইল্যান্ডের ভাঙ্গা সাদা চালের দাম ছিল প্রতি টন মাত্র ৫১৮ ডলার। জুলাইয়ে ২৬ তারিখ নাগাদ তা ৫৭২ ডলারে উঠে।
এর মাত্র ১৩ দিন পর আগস্টের ৯ তারিখে দাম বেড়ে হয় ৬৪৮ ডলার। দেড় মাসের কম সময়ে প্রতি টনরে দাম বেড়েছে ১৩০ ডলার। যা কেজিতে ১৩ টাকার সমান।
মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাবেই এশিয়ায় এবার ধানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে চালের দ্বিতীয় বৃহৎ সরবরাহকারী থাইল্যান্ডে এল নিনোর কারণে খরাবস্থা চলছে।
পানির ব্যবহার কমাতে সেদেশে কৃষকদের অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করে চলতি বছর মাত্র এক মওসুম ধান আবাদের নির্দেশনাও দেয় থাই সরকার।
এদিকে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করে বলেছেন এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকশো কোটি মানুষের খাদ্য হিসেবে চাল খুবই জরুরি।
তাই এর দামের ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতিতে আরো চাপ ফেলবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
ভারতের ইনডেক্স মান্ডি বলছে, ২০০৮ সালের এপ্রিলে চালের দাম এক বছরে ৫৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৯০৭ ডলারে উঠেছিলো। যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন: ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীদের নৌকা ডুবে নিহত ছয়
এর ১৫ বছর এবার জুলাইয়ে দাম আবার ৬০০ ডলার অতিক্রম করেছে। এরপর কি হয় তাই উৎকণ্ঠা নিয়ে দেখছে বাজার পর্যবেক্ষকরা।
একাত্তর/আরএ
