দেশের বীমা খাতের বাজার প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার। এই খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে এই অঙ্ক দ্বিগুণ করা সম্ভব। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, আগের চেয়ে খানিকটা বেড়েছে বীমা দাবি পরিশোধের হার। এই খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে আরও বড় করা সম্ভব বীমার বাজার। এ বিষয়ে সবরকম ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বললেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ চেয়ারম্যান।
দেশের ৮৩টি বিমা কোম্পানির উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান বাড়ানোয় ভূমিকা রেখে আসছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
কিন্তু পরিবার কেন্দ্রিক বিমা ব্যবসা পরিচালনার ধারা গড়ে ওঠায় এই খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে জীবন বিমার গ্রাহকদের মেয়াদ শেষে বীমা দাবির টাকা পেতে ভোগান্তির অভিযোগটা অনেক পুরোনো। তাই এই খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা বললেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো মানুষের ঝুঁকি নেয়। মানুষের জীবনের, সম্পদের ঝুঁকি নেয়। কোম্পানি যদি নিজেই ঝুঁকিতে থাকে তাহলে অন্যদের ঝুঁকি বহন করতে পারবে না।
আইডিআরএর তথ্য বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ১৮ লাখ নতুন গ্রাহক হওয়ায় ২০২২ সালে পলিসি খোলার হার বেড়েছে ১৪ শতাংশ। যদিও ১৭ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৭৯ লাখ জীবন বীমার গ্রাহক। যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও কম।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০২৩ সালে পরিশোধ করা হয়েছে ১০ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। আমরা দেখি কোনো একটা কোম্পানির বীমা দাবি পরিশোধের কতোগুলো বাকি আছে, তার ফান্ডে কতো টাকা আছে। যখন দেখি এফডিআর আছে কিন্তু বীমা দাবি পরিশোধ করছে না। তখন আমরা ডেডলাইন দেই।
তবে আস্থা বাড়াতে চলছে নানা উদ্যোগ। এ কারণে ২০১৮ সালে যেখানে মোট পলিসির ৫০ ভাগই হতো তামাদি, তা বর্তমানে কমে ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, ত্রুটিগুলো বের করছি এবং সেটা এড্রেস করার চেষ্টা করছি। গাইডলাইনে স্পষ্ট করে দিয়েছি কোন কোন বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে বা ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এখানে অনেকগুলো সাব কমিটির কথা বলেছি। শুধুমাত্র বোর্ড বা কোনো একজন সিদ্ধান্ত নেবে তা না। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কমিটি থাকবে, সে কমিটিগুলো কাজ করবে।
বর্তমানের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান দশমিক ৪ শতাংশ। বিমায় মানুষের আস্থা বাড়ানো গেলে, ১৬ হাজার কোটি টাকার বাজার বেড়ে দ্বিগুণ হবে, বাড়বে কর্মসংস্থান।
চীনের কারিগরি সহায়তায় লাভবান হতে পারে বাংলাদেশ