ব্যয় সংকোচন ও নিষেধাজ্ঞার এই সময়েও প্রশিক্ষণের নামে তুরস্ক ভ্রমণে যাচ্ছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আট কর্মকর্তা। আর এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে সাতজনই প্রশাসন ক্যাডারের। অথচ এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা কারিগরি ও দপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। অভিযোগ আছে, ভ্রমণের জন্য তালিকা করা হয়েছে প্রভাব খাটিয়ে।
জনগণের সেবক বলা হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। যাদের পেছনে প্রতি বছরই ব্যয় হয় বাজেটের বড় একটা অংশ। এছাড়া, দক্ষতা অর্জনের জন্য দেশে-বিদেশি প্রশিক্ষণ কিংবা সভা সেমিনারে অংশগ্রহণও নিয়মিত বিষয়। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক সংকটে, এসব নিরুৎসাহিত করা হলেও, তা অগ্রাহ্য করছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ৮ কর্মকর্তা।
একাত্তরের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত সরকারি টাকায় তুরস্ক ভ্রমণ করবেন ওই কর্মকর্তারা। যে তালিকায় আছেন, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হাফসা বেগম, যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ, সাবিহা ইয়াসমিন, পাট অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিসুর রহমান, বস্ত্র অধিদপ্তরের পরিচালক জাহেদুর রহমান, উপসচিব জিল্লুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ এবং বরিশাল টেক্সটাইল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের বেপারী।
সরকারি আদেশের ওই চিঠিতে বলা হয়, পাট ও বস্ত্রশিল্পের মূল্য শৃঙ্খল, প্রযুক্তি ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা বিষয়ে ৯ দিনের প্রশিক্ষণ দেবে ইস্তানবুল কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ, প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া বেশিরভাগই তার আওতার বাইরে। আর অংশ নিতে যাওয়া আট কর্মকর্তার ভ্রমণ ব্যয়, আবাসন, খাবার ও হাত খরচের পুরো টাকা দেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। যার সংস্থান করা হবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে। অথচ, এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দুই করপোরেশন বিজেএমসি ও বিটিএমসি লোকসানে জর্জরিত দীর্ঘদিন ধরে। এমন অবস্থায়, এই প্রস্তাবনাকে শুধুমাত্র প্রমোদভ্রমণ বলছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আইনুল ইসলাম একাত্তরকে বলেন, এ প্রশিক্ষণে দেখলাম একজন মাত্র টেকনিশিয়ান বাকিরা জয়েন সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি। তারা শিখে এসে মাঠে কতটা ভ্যালু অ্যাড করবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
একাত্তরের অনুসন্ধান বলছে, তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের অধিকাংশই একই ব্যাচের কর্মকর্তা। এর মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানের আগে আনিসুর রহমান, সাইফুল ইসলাম আজাদ ও জাহেদুর রহমান ছিলেন যথাক্রমে ঢাকা, বগুড়া ও পিরোজপুরের ডিসি। যদিও, এই ভ্রমণের পক্ষে সাফাই গাইলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। যিনি নিজেই সই করেছেন ওই সরকারি আদেশে।
এদিকে ভ্রমণের পক্ষে সাফাই গাইলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জিল্লুর রহমান। তিনি একাত্তরকে বলেন, যারা যাচ্ছেন তারা হয়ত প্রশাসন ক্যাডারের তবে তারাই এর কারিকুলাম দেখাশোনা করেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুরো ভ্রমণের খরচ ছাড়াতে পারে কোটি টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের দর কষাকষি, বাণিজ্য চুক্তিতে কম সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ