ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক মাস ধরে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ চালানোর পর এবার স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ইরানের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর লক্ষ্য, ইরানে উন্নত অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের প্রবেশ ঠেকানো।
‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামের এই বিশেষ দলটির সদর দপ্তর হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায়। এতে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা কাজ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথেও সমন্বয় করবে তারা। শুধু অস্ত্র সরবরাহ নয়, সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দাবি, এই উদ্যোগ ইরানের অস্ত্র কারখানা পুনর্গঠন, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের পথ সংকুচিত করবে।
এর আগে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে ইরান। রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর হয়ে জাহাজে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে ও চীন থেকে কার্গো বিমানে এসব সরঞ্জাম আনা হয়।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, নৌ অবরোধের কারণে ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আটকে গেছে। তবে এত চাপের মধ্যেও ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল করা যায়নি। ফলে নতুন এই উদ্যোগে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
