ডিজিটাল লেনদেনের সার্বজনীন প্রসার ও সবাইকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনতেই ‘বাংলা কিউআর’ চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা ফি না থাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী বাজারে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কেনাকাটার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
ক্যাশলেস অর্থনীতি বাস্তবায়নে ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়পক্ষই লাভবান হবেন।
বাংলা কিউআর ব্যবহার করে অবৈধভাবে ক্যাশ বা নগদ অর্থ উত্তোলনের কিছু অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চালুর একদম শুরুতে দুই-একটি বিচ্ছিন ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত এক জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করার পর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও এমএফএস (মোবাইল আর্থিক সেবা) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট হিসাব যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব কিউআর কোড স্ক্যান করে দিনে গড়ে সাড়ে তিন লাখ লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে, যার দৈনিক আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চালুকৃত ‘বাংলা কিউআর’ হলো একটি সার্বজনীন ও আন্তঃচালনাযোগ্য (interoperable) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যেখানে বিক্রেতার দোকানে প্রদর্শিত একটিমাত্র নির্দিষ্ট কিউআর কোড ক্রেতা তাঁর পছন্দের যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট) অ্যাপের ‘Scan QR’ অপশন দিয়ে স্ক্যান করে, মার্চেন্টের নাম যাচাইয়ের পর টাকার পরিমাণ বসিয়ে নিজের গোপন PIN বা বায়োমেট্রিক অনুমোদনের মাধ্যমে মুহূর্তেই সরাসরি পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন এবং লেনদেন শেষে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন বা বার্তা পেয়ে যান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরে লেনদেনের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
