দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ। নিজেদের পরিচালিত টেলিকম টাওয়ারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ইডটকোর টাওয়ার অপারেশন্সে জাতীয় গ্রিডের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিচ্ছন্ন বা গ্রিন এনার্জি সরবরাহ করার পথ সুগম হবে। ইডটকো ও ফ্লোসোলারের মূল লক্ষ্য হলো টেলিকম টাওয়ারের পরিচালন ব্যয় ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
চুক্তি অনুযায়ী, ফ্লোসোলার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ, গ্রিড সংযোগ প্রদান এবং প্রকল্প অর্থায়ন ও উন্নয়নের মূল কাজ পরিচালনা করবে। অন্যদিকে, ইডটকো তাদের নেটওয়ার্কের উপযুক্ত সাইট চিহ্নিতকরণ এবং দৈনিক ও বার্ষিক বিদ্যুতের চাহিদা মূল্যায়নে সহায়তা প্রদান করবে। বিশেষ বিষয় হলো, এই মডেলে ইডটকোকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রারম্ভিক কোনো মূলধনী বিনিয়োগ করতে হবে না; ফ্লোসোলারই
প্রাথমিক প্রাক্কলন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মডেলের আওতায় প্রতি ১০০ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে বছরে আনুমানিক ৮০ হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানো সম্ভব হবে। তবে কার্বন হ্রাস ও উৎপাদনের আসল হিসাবটি প্রকল্পের ধরন, প্রযোজ্য গ্রিড নিঃসরণ সূচক এবং প্রতিস্থাপিত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামো দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। এর সাথে সাথে এসব টাওয়ারে বিদ্যুৎ কীভাবে আসছে তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রারম্ভিক বিনিয়োগ ছাড়াই এই মডেল আমাদের টাওয়ার অপারেশন্সকে আরও টেকসই ও স্থিতিশীল করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ কানেক্টিভিটিকে অবশ্যই বিশ্বস্ত ও পরিবেশবান্ধব হতে হবে।
অন্যদিকে ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, যেহেতু টেলিকম নেটওয়ার্ক নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে হয়, তাই এর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ইডটকোর সঙ্গে এই চুক্তি আমাদের ধাপে ধাপে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতীয় কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
