টানা হরতাল ও অবরোধের মধ্যে আগামী রোববার বিএনপিকে মানববন্ধন কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপির) সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার ইসির (নির্বাচন কমিশন) সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশে ডেকেছিলো আওয়ামী লীগ। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলটিকে অনুমতি দেয়নি ইসি।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত ২৯ অক্টোবর থেকে টানা হরতাল ও অবরোধ চালিয়ে আসা বিএনপি এখন পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দুটি দিন এবং সপ্তাহের মাঝে মঙ্গলবার কর্মসূচিতে বিরতি রাখছে।
গত সোমবার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকা হয়। সেখানে রোববার মানবন্ধনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন বিএনপি সিনিয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসে রিজভী জানান, সেদিন তাদের দলের নিখোঁজ কর্মী সমর্থকদের স্বজনরা জেলায় জেলায় মানববন্ধন করবে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এখন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে হলে ইসির অনুমতি নিতে হবে। তফসিল অনুযায়ী ১৮ ডিসেম্বরের আগে প্রচারের কোনো সুযোগ নেই।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য সরকারের সব সংস্থা কাজ করছে। সে অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমাদের কার্যক্রম চলছে। এখন নির্বাহী বিভাগের যে কোনো সিদ্ধান্ত নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বে কি না আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়।
নির্বাচন কমিশনও সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছেন, এ অবস্থায় কোথাও কিছু করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণকে আমরা স্বাগত জানাবো।
নাশকতায় গ্রেপ্তার চার
এদিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সহ রাজধানীর ২১টি স্থানে ককটেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রমনা থানা পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেনরা হলো পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল, মো. আশিকুর রহমান পান্না, মো. সুমন হোসেন ওরফে রনি ও মো. বিল্লাল হোসেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন ও মুগদা এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মহিদ উদ্দিন বলেন, গত ৩০ নভেম্বর ডিএমপির রমনা থানা এলাকায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ঘটনার পরপরই রমনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আশিকুর রহমান পান্না ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পূর্বে পাশে অবস্থিত জাতীয় রাজস্ব ভবনের ছাদ থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। ককটেল নিক্ষেপকারী পান্না রাজস্ব ভবনের সিঁড়ি দিয়ে একটি লাল-সাদা রঙের শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে একাই ভবনের ছাদে ওঠে। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পর খালি হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যায়। রাজস্ব ভবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পান্নার অবস্থান নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পান্নার দেওয়া তথ্যমতে ডিএমপির পল্টন থানার চামেলীবাগ থেকে শফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। শফিকুলের সহায়তায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়াও রাজধানীর রমনা ও মতিঝিল এলাকায় আরো ৪টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আশিকুর।
তিনি জানান, গত ৩ ডিসেম্বর সুমন হোসেন রনি ও বিল্লাল হোসেন নাশকতা করার উদ্দেশ্যে ককটেলসহ মোটরসাইকেলে যাত্রাকালে পল্টন থানার জোনাকি সিনেমা হলের গলিতে রিক্সার সাথে ধাক্কা লাগার ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের সাথে থাকা ৩২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে উভয়ই আহত হয়। তারা সবুজবাগ থানা এলাকার হেলথ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে উত্তর মুগদায় আত্মগোপন করে। রমনা থানা পুলিশ মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে উত্তর মুগদা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার গ্রেফতার ব্যক্তিদের রমনা থানার মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মানিকনগর চৌরাস্তায় তিন বাসে আগুন