রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ চার জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনও চিকিৎসাধীন আছেন আরও ছয় জন।
মঙ্গলবার রাতে তাদের ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়টি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের সহকারী পরিচালক সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার হোসাইন ইমাম।
ছাড়পত্র পাওয়া দগ্ধরা হলেন- মাসুদ রানা (৩১), ডেইজি আক্তার রত্না (৪০), তার দুই ছেলে দিহান (১১) ও রেহান (৬)।
এর আগে ওই নৃশংসতার ঘটনায় আগুনে ও ধোঁয়ায় আহত হয় হাসপাতালটিতে তিন নারী, শিশুসহ মোট ১০ জন ভর্তি হন।
তাদের মধ্যে হালিমা বেগম (৫০) নামে একজনকে আইসিইউতে ও বাকিদের এইচডিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম।
তারা হলেন, ডেইজি আক্তার রত্না (৪০), তার স্বামী ইকবাল বাহার খান (৪৮), তাদের দুই ছেলে রেহান (৬) ও দিহান (১১)।
এছাড়া ডা. কৌশিক বিশ্বাস (৩২), নাফিজ আলম (২২), মাসুদ রানা (৩১), আসিফ মো. খান (৩০) এবং পরের দিন মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওয়াহিদা আক্তার (২৬) ও হালিমা বেগম (৫০)
ভর্তি হন ।
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন হালিমার বাড়ি যশোরের জিকরগাছা উপজেলার পায়রা ডাঙ্গায় বলে জানা গেছে। আর হালিমা গৃহিনী।
হালিমার ছেলে রাসেল উদ্দিন সোহাগ জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তার মা একাই ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ভাগনির বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন।
ভাগনী জামাই তাকে নেওয়ার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেনে আগুন লাগার পর তার শ্বাসনালী পুড়ে যায়। ট্রেনটি থামার পর তিনি সেখান থেকে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে অপেক্ষারত ভাগনীর জামাইকে খুঁজে পান এবং মুগদা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি হন।
তিনি আরও জানান, মায়ের শরীরের কোথাও বাহ্যিক দগ্ধ হয়নি। তবে শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির ডাকা হরতালের আগের রাতে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দলটির নেতাকর্মীরা। এতে চারটি বগি পুড়ে যায়। দগ্ধ হয়ে চার জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে তিন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছে।
এদিকে ওই আগুনের ঘটনায় বিএনপির বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তাদের মধ্যে ওই নৃশংসতার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও ট্রেনে আগুন দেওয়া ব্যক্তি রয়েছেন। তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ট্রেনে আগুন দেওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য কাজী মোহাম্মদ মনসুর আলম ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ট্রেনে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। নির্বাচন বানচাল করতেই আগুন দিয়ে জনমনে ভীতি ছড়াতেই এই আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মনসুর আলম।
কীভাবে আগুন দেওয়া হলো বেনাপোল এক্সপ্রেসে, জানালেন যুবদল নেতা
বেনাপোল এক্সপ্রেসে নাশকতার ‘হোতা’ নবী তিন দিনের রিমান্ডে