১২ ঘণ্টা পর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর ডেমরার ভাঙাপ্রেস এলাকায় খেলার সামগ্রীর গোডাউনে লাগা আগুন। ফায়ার সার্ভিসের দাবি, কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছিলো। তাদের দাবি বিপুল পরিমাণে পণ্য মজুত করা হলেও ভবনটিতে কোনো গ্যাংওয়ে ছিলো না। ভবনে ঢোকার সিড়িও ছিলো অত্যন্ত সরু, ছিলো না আগুন নেভানোর প্রাথমিক ব্যবস্থাও।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ খেলার বিভিন্ন পণ্যে ঢাসা ভাঙাপ্রেস এলাকার এই ভবনে আগুন লাগে। শুরুতে তিন তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও পরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে, সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ারসার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ক্রিকেট ব্যাটসহ বিভিন্ন খেলা আর প্রচুর পরিমাণে ব্যায়ামের সরঞ্জাম মজুদ ছিলো ভবনটিতে। এসব পণ্যের বেশিরভাগই ছিলো প্লাস্টিক আর রাবার জাতীয় পণ্য, যে কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণেও বেগ পেতে হয়।
তিনি বলেন, বাণিজ্যভাবে ব্যবহার করা হলেও ভবনটিতে ছিলো না পর্যাপ্ত সিড়ি ও আগুন নেভানোর ব্যবস্থা। ভবনটির আশেপাশে কোনো পানির ব্যবস্থা না থাকায় উপায় না পেয়ে এক পর্যায়ে ড্রেনের পানিও আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।
আখতারুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন আহত হলেও আর কেউ হতাহত হয়নি। আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও আগুন লাগার কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় ভাঙ্গা প্রেস এলাকার ক্রীড়াসামগ্রীর গোডাউনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট পৌঁছে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে। এরপর ডেমরা, পোস্তগোলা ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে মোট ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এরপর সকাল আটটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল নৌবাহিনীও।
