ভলান্টারি কনজুমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটি (ভোক্তা) আসন্ন বাজেটে ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি না করে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, আইএমএফ’র চাপ সত্ত্বেও কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি এবং মূল্যস্ফীতি রোধ ও বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারকে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠন ভোক্তা’র পক্ষ থেকে নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল এ পরামর্শ দেন ।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট-পূর্ব প্রস্তাবনার ধারাবাহিকতায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটকে আরও গণমুখী করতে খাতওয়ারি ১৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
ভোক্তার সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্রব্যমূল্য কমিয়ে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতায় আনতে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক ও মূসক সহনীয় পর্যায়ে রেখে বিলাসদ্রব্যসহ ধনীদের ব্যবহার্য পণ্যে শুল্ককর বৃদ্ধি, অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর ওপর মনিটরিং জোরদার করা, বাজার সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির ভর্তুকিযুক্ত পণ্যের উন্মুক্ত বাজার সম্প্রসারণ করা।
এছাড়া কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দের ৫ শতাংশ, দুর্বল স্বাস্থ্য খাতকে পথ দেখাতে বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, বৈশ্বিক অতিমারীর ফলে সৃষ্ট বিশ্বমন্দা ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতায় কর্মহীন মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অন্তর্ভুক্তি, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করারও তাগিদ দেওয়া হয়।
এছাড়াও শিল্প-কারখানা পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি ক্রয়ে বিশেষ বরাদ্দ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল করা, অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করে পাঠানো অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করা এবং বিচারের আওতায় আনার পরামর্শও দেওয়া হয় সরকারকে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা হ্রাস এবং জনগণের ওপর চাপ না বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। ভর্তুকির চাপ কমানোর অজুহাতে সার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাম না বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
বাজেটে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করতে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ রাখার জোর দাবি জানানো হয়।
গুলশান মাঠে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান