ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ চলছে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা এবার দাবি তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজের কিছু শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে কোটা সংস্কারের এক দফা নিয়ে আন্দোলন করছি। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে না। আমরা ক্লান্ত হইনি। আমরা আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনেদিকে আমরা অগ্রসর হবো।
এদিকে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এখানে দুটো পক্ষ মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার। ভাবতে অবাক লাগে রোকেয়া হলের মেয়েরাও বলে তারা রাজাকার। তারা কী শিক্ষা পেলো! তারা কী জানে ২৫ মার্চ কী হয়েছিলো! এসব তারা দেখেনি। তাই তারা রাজাকার পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখ লাগে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের মেয়েরাও শুনি তারা ‘রাজাকার’ স্লোগান দিচ্ছে। তারা কি একাত্তরে এই হলের ইতিহাস জানে? শিক্ষার্থীরা কি জানে, কী পাষবিক নির্যাতন পাকিস্তানি হানাদাররা রোকেয়া হলেই করেছে! রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতো। এসব শিক্ষার্থীরা সেসব দেখেনি। কী শিক্ষা তারা নিলো... আসলে এসব জানেনা বলেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের রাজাকার বলতে লজ্জা পাচ্ছে না।
রোববার সন্ধ্যায় চীন সফর নিয়ে সাংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এতো ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? আর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তাদের কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে?
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে তাদের ‘অপমান’ করা হয়েছে। এনিয়ে রাতেই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লোগান দিতে থাকে, ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার, রাজাকার’।
এ ঘটনায় দেশবাসীসহ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। নানাভাবে এর প্রতিবাদ আসতে শুরু করে। বিশেষ করে ঢাবির রোকেয়া হলের নারী শিক্ষার্থীরা ‘রাজাকার’ দাবি করে স্লোগান দিলে তাতে ক্ষোভ আরও বাড়ে। পরে সোশ্যালে তা উগড়ে দেন নেটিজেনরা।
রাজাকারদের পক্ষে স্লোগান, তারা কী শিক্ষা পেলো: প্রধানমন্ত্রী