রাজধানী ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় একজন হার্টের রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, ওপেন হার্ট সার্জারির সময় তিনি মারা যান; যা নিয়ে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর মৃত্যুরও সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জানানো হয় পরিবারকে।
শনিবার রাতের এই ঘটনায় হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজনরা। ঘটনার জন্য চিকিৎসকদের গাফিলতিকে দায়ী করে এর বিচার চেয়েছেন তারা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে এর কোনো সদুত্তর দেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার রং মিস্ত্রী মোশাররফ হোসেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অপারেশনের জন্য ভর্তি হন রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে। অপারেশনের জন্য তার সন্তানরা হাসপাতালে সাড়ে তিন লাখ টাকাও জমা দেন। অস্ত্রোপচারের আগে মুহূর্তেও সুস্থ ছিলেন তিনি।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, উন্নত চিকিৎসার আশায় ভর্তি করানোর পর শনিবার রাতে অস্ত্রোপচার শেষে মোশাররফ হোসেনের নিথর দেহ বুঝে পান ছেলে।

তার অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে তারা বাবার। সন্ধ্যায় বাবার মৃত্যু হলেও রাত সাড়ে ৯টা বাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর খবর জানায়।
মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবরে পুরো হাসপাতালে নেমে আসে শোকের ছায়া। সন্তানদের পাশাপাশি স্বজনরাও হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কর্তৃপক্ষ টাকা ও চাকরির প্রলোভন দেখায় বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
নিহতের ছেলে আতিকুর রহমান লিটু বলেন, অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলমের অধীনে আমার বাবার অপারেশন হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। তার সহকারীরা বাবার অপারেশন করেছে। নিহতের মেয়ে ফারজানা আক্তার বলেন, অস্ত্রোপচার শুরু হওয়ার অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও অধ্যাপক মঞ্জুরুল থিয়েটারে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, আমার পড়ালেখার খরচ এবং পড়ালেখা শেষে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চাকরি দেয়া হবে বলে প্রস্তাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চিকিৎসকের সহকারীর হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বলা হয়েছে রোগীর স্বজনদের দেয়ার জন্য।

ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কলা বাগান থানা পুলিশ। ঘটনার পর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের দুই একজন সদস্য হাজির হলেও মৃত্যুর দায় নিতে তারা নারাজ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবি করে হাসপাতালে হট্টগোল করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, নিহত রোগীর স্বজনদের নিয়ে বসেন তারা। এই ঘটনায় হাসপাতালের উদাসীনতা খুঁজে পান তারা।
এ সময় পরিবারকে দেয়া হাসপাতালের বিল ভাউচারে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে রাত তিনটার দিকে মরদেহ নিয়ে যায় পরিবার। তবে মৃত্যুর সনদ দিতেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঝামেলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে মৃতের স্বজনরা।
ট্রেইনি চিকিৎসকদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার