চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, ডাক্তার বা ডাক্তার সমার্থক পদবী ব্যবহারসহ পাঁচ দফা দাবিতে দেশজুড়ে সব হাসপাতালে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন চিকিৎসকরা। দেশের সব হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ব্যক্তিগত চেম্বার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তারা।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎকরা। ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত রিটের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত রোববার থেকে নতুন কর্মসূচি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে চিকিৎসকরা একটি নির্দিষ্ট সময় কর্মবিরতি পালন করছেন তারা এবং মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছেন। বুধবার রায় ঘোষণার দিনকে কেন্দ্র করে নতুন এই কর্মসূচি দিয়েছে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা।

এদিকে, চিকিৎসকদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের বর্হিবিভাগে আসা রোগীরা।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ঢাকা মেডিকেলের বর্হিবিভাগে গিয়ে দেখা গেলো, কেউ কোমরে ব্যথা, কারো পা ভাঙ্গা কেউবা আবার গর্ভবতী। সবাই এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেবা নিতে এসেছেন এই রোগীরা। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানো, এরপর পরবর্তী চিকিৎসা। কিন্তু সকালে ভোগান্তির মুখে পড়েন দূর দূরান্ত থেকে আসা এসব রোগীরা।
ডাক্তার বা ডাক্তার সমার্থক পদবী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৩ বছর ধরে চলমান তিনটি রিটের নিষ্পত্তি, চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, এমবিবিএস বা বিডিএস চিকিৎসক ছাড়া অন্যদের প্রসেক্রিপশনের অনুমোদন বন্ধ করা, ম্যাটস বন্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে শাটডাইন কর্মসূচি শুরু করেন চিকিৎসকরা। হঠাৎ তাদের এমন কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগীরা।

এ সময় বর্হিবিভাগে রোগী দেখানোর টিকেট ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় অনেকেই সেবাবঞ্চিত হন। ১১ টার পর বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা মেডিকেলের আউটডোর বিভাগ।
আন্দোলনরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, গেলো ১৩ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে আদালতে তিনটি রিট হয়েছে। ৭৩ বার মামলার তারিখ পিছিয়েছে। যাকে প্রহসন দাবি করে আগামি ১২ মার্চ রায় না হওয়া পর্যম্ত সারাদেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের বর্হিবিভাগে কর্মবিরতি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন চিকিৎসা। প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখাও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।
এই সময়ে মেডিকেল কলেজর ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করা হবে। কেবল জরুরি বিভাগে সেবা চলবে বলে জানান আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
