বিয়ারিং কাজ না করার কারণে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির চাকা খুলে পড়ে গিয়েছিলো বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানের প্রকৌশল বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য মিলেছে। সোমবারের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও আরও সাতদিন সময় দেয়া হয়েছে।
তবে কী কারণে ‘বিয়ারিং ফেইলিওর’ হয়েছিল বা কাজ করেনি, সেটি তদন্তের পর জানা যাবে বলে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য। চাকা খুলে পড়ার এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও তদন্তে বিমান কর্তৃপক্ষ দুইটি কমিটি গঠন করেছে।
গেলো ১৬ মে কক্সবাজার থেকে ঢাকার পথে উড়াল দেয়ার পরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটটির পেছনের একটি চাকা খুলে পড়ে যায়। পরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ৭১ জন যাত্রী নিয়ে নিরাপদেই ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরন করে ডেশ-৮ মডেলের বিমানটি।

ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহ আর ফার্স্ট অফিসার জায়েদের দক্ষতায় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও প্রশ্ন উঠে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে। কারণ একটি বিমান ওড়ার আগেই সেটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা সম্পন্ন করাটাই নিয়ম। কক্সবাজারে সেই পরীক্ষা নীরিক্ষার কাজটি হয়েছিলো কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার পর দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রকৌশল বিভাগের প্রতিবেদনটি জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিলো সোমবার। তবে তদন্তের জন্য আরও সাতদিনের সময় চেয়েছেন তারা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে পেছনের চাকাটির বিয়ারিং কাজ না করার কারণেই সেটি খুলে পড়ে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঘটনা পর্যালোচনা করে বিমান কর্তৃক্ষ বলছে, কানাডার ডি-হেভিল্যান্ড এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি ড্যাশ-৮ ৪০০ মডেলের বিমানটির চাকার বিয়ারিং ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট চাকা অথবা টায়ার 'বিচ্যুত হতে পারে', যা সেদিন ঘটেছে।
সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর এ সম্পর্কে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাসে একবার ড্যাশ-এইট বিমানের বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে হয়। প্রশ্ন উঠে, চাকা খুলে যাওয়া বিমানটি ক্ষেত্রে শেষ কবে এই পরীক্ষার কাজটি করা হয়েছে?
তদন্তে কারও বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিললে শাস্তির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানটি আবারোও নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে।
