সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ ও সিওও শফিক আহমেদ এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা 'হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬'।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়।
১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বের অনুসরণীয় গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করে আসা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘হুজ হু’-র এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।
সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তারা হলেন-
আজীবন সম্মাননা: দৃক এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
সাংবাদিকতা: শফিক আহমেদ (সিওও ও বার্তা প্রধান, একাত্তর টেলিভিশন)।
শিল্প ও সংস্কৃতি: ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা)।
শিল্প ও সাহিত্য: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম।
কৃষি: অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান (ভিসি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)।
শিক্ষা: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মনসুর আহমেদ চৌধুরী।
উদ্যোক্তা (পুরুষ): এরশাদ উল্লাহ (সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী)।
উদ্যোক্তা (নারী): কনা আলম (ওমেন্স ওয়ার্ল্ড)।
পেশাজীবী: শাখাওয়াত হোসেন (সিইও, হোটেল শেরাটন ও ওয়েস্ট ইন)।
ক্রীড়া: সাঈদ উর রব (যুক্তরাষ্ট্র)।
সমাজসেবা: শান্তি শ্রী (শ্রী চিন্ময় ফাউন্ডেশন)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছেন, তাদের মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনেরও দায়িত্ব। হুজ হু-র এই উদ্যোগ গুণীজনদের আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের গুণীজনদের কাজ ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সরকার সবসময় মেধাবীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এবং 'হুজ হু বাংলাদেশ'-এর প্রধান নির্বাহী নাজিনুর রহিমসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করা ও অনুপ্রাণিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
