রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উদ্ধার হওয়া এক লাশের নেপথ্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্যের জট খুলেছে পুলিশ। এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে এক ব্যক্তিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তদন্তে নেমে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী জামালপুর রুটের 'রাজ ক্লাসিক' পরিবহনের একটি বাসের সন্দেহজনক গতিবিধি গোয়েন্দাদের নজরে আসে।

রোববার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, সেই সূত্রের সূত্র ধরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আটক করে পুলিশ। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা স্বীকার করে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসমাইলকে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে জামালপুরের বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনে ওঠেন ৪৯ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন। ভাড়া দেয়ার সময় তার কাছে থাকা টাকা দেখতে পেয়ে লোভে পড়েন বাসের সুপারভাইজার। বিষয়টি হেল্পার ও চালককে জানান তিনি।

পরে বাসের সব যাত্রীদের নামিয়ে ইসমাইলকে আটকে রাখেন তারা। শ্বাসরোধে হত্যার পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানীর অংশে ফেলে দেয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে সন্দেহভাজন বাসটি শনাক্ত করে বনানী থানা পুলিশ। মহাখালী থেকে বাসটি জব্দের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ও হেলপার মনিরকে। পরে চালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর উচ্চগতির এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এমন হত্যাকাণ্ডের পর এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় দ্রুত গতিতে যাতায়াতকারী অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। এই মেগা প্রজেক্টটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সিসি ক্যামেরা বাড়ানো এবং নজরদারি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
