রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে খাঁটি স্বর্ণ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ আন্তর্জাতিক প্রতারক ও ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেফতারদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলভার এবং লুণ্ঠিত অর্থের মধ্যে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ফারুক হোসেন। গ্রেপ্তার ডাকাতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মজিবুর রহমান (৬০), অনারারি ক্যাপ্টেন জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০) এবং সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সোলায়মান মৃধা (৫৫) রয়েছেন।

তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে র্যাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চক্রের অন্য গ্রেফতারকৃত সদস্যরা হলেন, তানভীর আবেদীন (৪১), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।
যেভাবে পরিচালিত হতো চক্রটি: পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, মূলত চক্রের কিছু সদস্য জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে কম দামে স্বর্ণ বিক্রির লোভ দেখিয়ে সচ্ছল ক্রেতাদের টার্গেট করত। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩০ আগস্ট দুপুরে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে স্বর্ণ লেনদেনের কথা বলে ধানমন্ডিতে ডেকে আনা হয়।
পরে আলোচনার এক পর্যায়ে তাঁকে কৌশলে রিকশায় করে ধানমন্ডির ১২ নম্বর সড়কের 'ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টে'র সামনে নেয়া হয়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা লেলিনের দল সংকেত পাওয়া মাত্রই রিকশার গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে খোরশেদ আলমকে মারধর করে ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মোটরবাইকে সটকে পড়ে।

ঘটনার পরপরই ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় অস্ত্রসহ তানভীর আহমেদ ও সাবেক সার্জেন্ট মজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, মোহাম্মদপুর ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের অধিকাংশই পেশাদার অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বাকি অর্থ উদ্ধার ও পলাতকদের গ্রেফতার করতে অভিযান জোরদার রাখা হয়েছে।
