নওগাঁর পত্নীতলায় নিজ বাড়ির ছাদ থেকে কৃষক ইয়াকুব আলীর (৫৫) গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইয়াকুব আলীর মরদেহ ও একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার সঠিক কারণ জানাতে না পারলেও, তিনি তার লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত ইয়াকুব আলী পত্নীতলা উপজেলার চেহারাডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
জানা গেছে, ইয়াকুব আলী ছাড়া তার চার ভাই ও এক বোনের সবাই সরকারি উচ্চ পর্যায়ে চাকরি করতেন বা করেন। তারা সবাই নিজ নিজ কর্মস্থল ও ঢাকায় পরিবারসহ বসবাস করেন।
তাদের পরিবারে প্রায় ৫০-৬০ বিঘা জমি ইয়াকুব আলী গ্রামে থেকে দেখাশুনা ও চাষাবাদ করে আসছিলেন। নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা একটি বন্দুক ছিল তার।
এই জমিজমা ভাগবাটোয়ারার উদ্দেশ্যে গত দুই-তিন দিন ধরে গ্রামের বাড়িতে তার তিন ভাই অবস্থান করছিলেন।
ইয়াকুব আলীর স্ত্রী মর্জিনা বেগমের বরাত দিয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম জানান, সকালে বাড়ির সবাই ঘুম থেকে ওঠার আগে মর্জিনা বেগম ও ইয়াকুব আলী ছাগলের জন্যে বাড়ির বাগানে গাছের পাতা কাটছিলেন।
এসময় বাড়ির ছাদে যান ইয়াকুব আলী। কিছুক্ষণ পরে বিকট শব্দ পেয়ে মর্জিনা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে ছাদের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় মর্জিনার ডাকাডাকিতে অন্যরা এসে ছাদের পাশের গাছ বেয়ে উঠে ইয়াকুব আলীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বন্দুকটি জব্দ করে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত
ওসি শামছুল আলম আরো জানান, নিহতের থুতনির নীচে গুলি লেগে মাথার উপরের অংশ মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক চাপ অথবা হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
