গুগল ম্যাপে দ্বীপটির নাম হেয়ার আইল্যান্ড। কিন্তু এলাকার লোকজন চেনেন কলাগাইচ্ছার চর নামে। অনেকে আবার কলাগাছিয়াও বলে। তবে, সেখানে কলাগাছ না থাকলেও বঙ্গপোসাগরেরবুকে বালুকাময় এই দীর্ঘ সৈকতে আছে সবুজ ঝাউবন আর গুল্মতলার হাতছানি।
দ্বীপটি পটুয়াখালী জেলার সর্ব দক্ষিণে সাগর সান্নিধ্যের নৈসর্গিক ভূখণ্ড রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার বাস্পিড বোট।
তেতুলিয়া নদী ধরে বঙ্গপোসাগের দিকে গেলে এক পাশে চর কাশেম, অন্যপাশে অন্ধার চর আর সোনার চর। সোনাচরের পাশেই ডিম্বাকৃতির চরটিকে গুগলম্যাপে আছে হেয়ার আইল্যান্ড নামে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা চেনেন কলাগাইচ্ছার চর নামে। আর এটাই দক্ষিণে একমাত্র দ্বীপ। এরপর বঙ্গপোসাগরের বিশাল জলরাশি। বাসিন্দা বলতে ১০ থেকে ১২টি জেলে পরিবার।তবে, এটি হতে পারে অন্যতম এক পর্যটন কেন্দ্র। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত দেখা যায় দ্বীপটিকে।
বালুকাময় বিচ চরের চারদিকে। সেখানে দেখা যায় লাল কাঁকড়াও। দ্বীপে ঝাউসহ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা নানা গাছপালায় পরিপূর্ণ। মুখরিত পাখির কলকাকলিতে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সবুজ বনের ভেতরে বিছিয়ে আছে ঝড়া ঝাউ পাতার কার্পেট।
আরও রয়েছে নানা আকারের ছইলা, কেওরা, গেওয়া, বাইন গোলপাতা, হারগুজি,তাম্বুরা কাটার ঝোপঝাড়। বক, সারস, শামুকখোল, মদনটাকরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয়বড় গাছের মগডালে। আর ঝোপগুলো ডাহুক, কোড়াসহ নাম না জানা পাখিদের অভয়ারণ্য।
পায়রা সমুদ্র বন্দর চালু হলে শিল্পকরাখানা গড়ে ওঠবে দক্ষিণাঞ্চলে। বিদেশি পর্যটাদের জন্য থাইল্যান্ডের ফিফি আইল্যান্ড কিংবা বালি দ্বীপের মতো করে সাজানো যায় দ্বীপটিকে। সেই সম্ভবানা মাথায় রেখে পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
কলাগাইচ্ছার চর ছাড়াও সোনার চরও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা হতেপারো। পর্যটক সুরিধা গড়ে তোলা বিদেশীদের পাশাপাশি দেশি পর্যটকদের গন্তব্য হতে পারে এই দ্বীপ।
একাত্তর/এসএ
