পঞ্চম শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থীকে স্কুল শিক্ষিকা বাথরুমে আটকে রাখে ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার শীলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। চলতি মাসের ৫ তারিখে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দেলুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতন করা ওই শিক্ষিকা হলেন স্কুলটির সহকারী শিক্ষিকা চিন্ময়ী সরকার।
এ বিষয়ে শারীরিক প্রহারের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানান, আমাদের মেয়েদের শিক্ষিকা চিন্ময়ী বিনা করাণে দুই ঘন্টা বাথরুমে আটকে রাখে। পরবর্তীতে বাথ রুমের মধ্যে চিৎকার চেচামেচি করলে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে। স্কুল থেকে বাড়িতে এসে বিষয়টি আমাদের কাছে খুলে বললে আমরা ঐ বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছিলাম। তার প্রেক্ষিতে পরেরর দিন আমাদের মেয়েদের সহকারী শিক্ষিকা চিন্ময়ী ব্যাপক ভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে বেত্রাঘাত করেন। আমরা আবারও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার প্রার্থনা করলে ৭ সেপ্টেম্বর স্কুল অফিস রুমে সকলের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ঐ বৈঠক চলাকালে সাংবাদিক উপস্থিত হলে সঠিক কোন বিচার না দিয়ে তা বন্ধ করে সবাই যার যার মতো চলে যায়। আমরা এখনো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন সমাধান পাইনি।
এদিকে, ওই বৈঠক নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের নজরে আসে বিষয়টি বিষয়টি আমলে নেয়। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঐ সালিসি বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার শীল।
অজিত কুমার শীল বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে অফিস কক্ষে আমার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা চিন্ময়ী সরকারকে নিয়ে একটি সালিসি বৈঠক বসে। এর দুই দিন আগে ৫ম শ্রেণীর সুমাইয়া ও খাদিজা নামের দুই ছাত্রীকে চিন্ময়ী বাথরুমে আটকে রাখে ও ব্যাপক ভাবে শারীরিক ভাবে প্রহার করেন। এর প্রেক্ষিতে ঐ শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে আমার কাছে ও সভাপতি সাহেবের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। তার প্রেক্ষিতে ঐ দিন অফিস কক্ষে ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি সহ স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধানের জন্য সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেদিন বিষয়টির মিমাংশা না হলেও পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।
এদিকে ঐ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা চিন্ময়ী সরকারের কাচে মুঠোফোনে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লাশে আছি, এখন কোন কথা বা তথ্য জানানো সম্ভব নয় বলে জানান।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার সুজাবত আলী জানান, আমরা সরজমিনে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। প্রধান শিক্ষককে তিন কার্য্য দিবসের মধ্যে পাঠদান বন্ধ রেখে সালিশ বৈঠক করার বিষয়ে সঠিক ব্যাখা দেবার জন্য শোকজ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংশা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
একাত্তর/এসএ
