তুমব্রু সীমান্তে মর্টার শেল আর গুলির ভয়ে ফসল তুলতে পারছেন না কৃষকরা। খোলা যাচ্ছে না দোকানপাটও। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন সীমান্ত এলাকার কৃষক আর ব্যবসায়ীরা।
অথচ সীমান্ত জুড়ে এখন জুমচাষ আর ধান আবাদের মৌসুম। অথচ এ আয় দিয়েই সারা বছরের খাবার জোটে বলে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ।
তুমব্রু সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে দিগন্তজোড়া ধানক্ষেত। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, নাইক্ষ্যংছড়ির ৩৪৭ হেক্টর পাহাড়ের ঢালু জমিতে এখন জুমসহ নানা রকম ফসলের আবাদ চলছে। সাদা পতাকাগুলো জানান দেয় এটি শান্তিপূর্ণ এলাকা।
কিন্তু বিজিবি চেকপোস্ট থেকে ঘুমধুম উপজেলা পরিষদে যাওয়ার এই পথে এখন বিপদের বার্তা বহন করা লাল পতাকা।
যখন তখন গুলি আর মর্টার শেলের আতঙ্কে এখন ক্ষেতে যেতে ভয় পান স্থানীয় কৃষকরা। ফসল নষ্ট হচ্ছে মাঠেই। মীর আহম্মদের মতো কৃষকদের তাই এখন অলস সময় কাটছে।
সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বাংলাদেশ অংশে গুলি এসে পড়ায় চাষিরা আতঙ্কে খেত-খামারে যেতে সাহস করছেন না।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের শূন্যরেখার আশপাশে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বাংলাদেশি কৃষকের জুম, ধান ও শাকসবজির চাষাবাদ করেন।
এক কৃষক বলেন, গোলাগুলির শব্দ এবং গুলি এসে পড়ার শঙ্কায় বহু কৃষক জুমচাষে যেতে পারছেন না। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জুমচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা আছে।
তুমব্রু এলাকার এক চাষি বলেন, শূন্যরেখার পাশে তার ধান চাষের জমি আছে। চারা রোপণ হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগে। এখন সার দিতে হবে। কিন্তু মাঠে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওয়ালিডং পাহাড়ে গোলাগুলির কারণে আতঙ্কে ধানক্ষেতে যেতে পারছেন না বাংলাদেশি চাষিরা।
শুধু চাষাবাদই নয়, তমব্রু বাজারের ব্যবসাও বন্ধ হতে বসেছে। তবে শুধু এলাকার মানুষ নয়। এই এলাকার সাথে যাদের রুটি রুজির সম্পর্ক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারাও।
আরও পড়ুন: সহকর্মীর স্ত্রী নিয়ে পালানোয় পুলিশ সদস্য জেলে
যেমন অন্য এলাকা থেকে এসে বাজার ও তার আশেপাশের দোকানে পানের যোগান দেয়া আব্দুল গফুর। তার ব্যবসাও লাটে ওঠার জোগাড়।
এভাবে টানা আয় বন্ধ থাকলে পরিবার নিয়ে পথে বসার শঙ্কায় ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্তবাসী।
একাত্তর/আরএ
