দাবিকৃত যৌতুকের মাত্র ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ না করতে পারায় স্বামী ও শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনে শরীরে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ লতা আক্তার (২২)।
গরম খুঁন্তির ছ্যাঁকার নির্মম নির্যাতনের যন্ত্রণা নিয়ে পাঁচদিন ধরে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাতরাচ্ছেন ওই গৃহবধূ।
এক সন্তানের জননী লতা আক্তার জেলার ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া হাজীপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলামের মেয়ে।
লতার বাবা আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালের ৭ জুলাই পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সেনাপাতা গ্রামের মৃত আবু তাহের ছেলে সজীব হোসেন বাবুর (২৭) সঙ্গে বিয়ে হয় লতা আক্তারের। জামাতা সজীব পেশায় ট্রাক্টর চালক। বর্তমানে তাদের সংসারে সাড়ে তিন বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
লতার বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের সময় সজীবের পরিবার যৌতুক হিসেবে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে পরিশোধ করায় হয় তিন লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৩০ হাজার টাকার জন্য সে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে আমার মেয়েকে। আমি টাকা দিতে না পারায় মেয়ে লতার ওপর তার স্বামী ও শাশুড়ি একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার আপোষ মিমাংসার বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি।’
লতা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘যৌতুকে বাকী ৩০ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে গত ৪ নভেম্বর সকাল ১০ টার দিকে আমার স্বামী সজীব হোসেন বাবু ও শাশুড়ী জাহেদা খাতুন আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে তারা আমার শরীরিরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুঁন্তির ছ্যাঁকা দিতে থাকে। তাদের এমন নির্মম নিয়াতনে শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সেদিন বিকালে বাবার বাড়ীতে চলে আসলে আমার বাবা আমার অবস্থা দেখে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করায় বাবা।’
তিনি বলেন, ‘গত পাচঁ বছর ধরে তাদের নির্যাতনে আমার জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র সন্তান কথা চিন্তা করে সব কষ্ট সহ্য করেছিলাম। কিন্তু দিনে দিনে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি ওই সংসারে আর ফিরে যেতে চাই না। এমন নির্যাতনের বিচার চাই আমি।’
এ ব্যাপারে লতা আখতারের স্বামী সজীব হোসেন বাবু যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘পারিবারিক কারণে রাগের বসে গালে থাপ্পড় মেরেছি। গরম খুঁন্তির ছ্যাঁকা দেইনি। বিষয়টি এতদূর গড়াবে বুঝতে পারিনি। আমার স্ত্রীকে আমি ভালোবাসি, আমাদের সংসার টিকে রাখার জন্য সহযোগিতা চাচ্ছি।’
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. পারমিতা রায় বলেন, ‘দুই গালে, গলায় এবং পায়ে গরম ছ্যাঁকার আঘাত নিয়ে লতা আক্তার পাঁচ দিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।’
লতার বাবা আমিনুল ইসলাম জানান এই ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবারটি।
একাত্তর/এআর
