রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই। ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা হিসেবে নতুন যুক্ত হয়েছে রংপুর ও কুমিল্লার নাম। ময়মনসিংহে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেছেন একজন। খুলনায় কয়েকদিনে শুধু দুটি হাসপাতালেই ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৪ জন।
চট্টগ্রাম
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে জনসচেতনতার উপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বললেও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে চারজন মারা যাওয়ায় আতঙ্কে চট্টগ্রামের মানুষ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম জানান, ডেঙ্গুরোধে জনবল বাড়িয়ে নগরীতে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া ভবন মালিকদের জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।
রংপুর
রংপুরে ভয়ংকর আকার ধারণ করছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা মশারি টাঙিয়েও মশার উৎপাত থেকে রেহাই মিলছে না।
এদিকে হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সাথেই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিটি কর্পোরেশনের কোন তৎপরতাই নেই।
খুলনা
খুলনার জেলা সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ জানান, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে গেল ২৪ ঘণ্টায় তিনজন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নতুন ভর্তি হয়েছেন ১০ জন।
বরিশাল
বরিশালেও আক্রান্ত রোগীর বেশিরভাগ ঢাকা থেকে আসা। শেরেবাংলা মেডিক্যালে গেল ১০ দিনে ৩৭৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। রোগীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না তারা, মিলছে না চিকিৎসকদের দেখা।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় সোমবার থেকে ডেঙ্গুর আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।
কুমিল্লা
এদিকে কুমিল্লার বরুড়া ও দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। আক্রান্তরা বেশিরভাগই ঢাকা কিংবা আশেপাশের জেলা থেকে আসা।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ডেঙ্গু ওয়ার্ড খুলে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহজলভ্য করা হয়েছে। মশা নিধনে নিয়মিত ছিটানো হচ্ছে ওষুধ।
গাজীপুর
গাজীপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুর ইসলাম জানান, হাসপাতালে নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। একটু জটিল রোগী হলে ভর্তি করা হয়, নইলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
একাত্তর/জো
