সিরাজগঞ্জের বেলকুচির ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর বানিয়াগাঁতি গ্রামে চান মাতব্বরের বাড়ি থেকে মাসুদের বাড়ি পর্যন্ত ও ভাঙ্গাবাড়ি কবরস্থানে রাস্তা নির্মাণ এবং মাটি ভরাট প্রকল্পে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের মধ্যে ২০ জন শ্রমিকের প্রথম কিস্তি টাকা দেয়ার সময় যে বিকাশ নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিতীয় কিস্তিতে সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা শ্রমিকদের না।
তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়ার যোগসাজশে ২০ জন শ্রমিকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নাম্বার পরিবর্তন করে দুই লাখ ৩২ হাজার টাকার আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক খান প্রতিবেদককে বলেন, যে ২০ জন শ্রমিক অভিযোগ করছেন, তাদের প্রথম কিস্তির সাথে দ্বিতীয় কিস্তির বিকাশ নাম্বারের মিল পাওয়া যায়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে আমি বারবার তাগাদা দিলেও আমাকে জানানো হয়েছে, কর্মসৃজনের টাকা সকল শ্রমিকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে গেছে। এখন তাদের কিছু করার নেই।
ভাঙ্গাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা তার ইউনিয়নে ঘটেনি। যারা কর্মসৃজন প্রকল্পে কাজ করেছেন সবাই টাকা পেয়েছেন।
বেলকুচি উপজেলা সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনু মিয়া বলেন, বিকাশ নাম্বার পরিবর্তনের এখতিয়ার ইউনিয়ন কমিটির। আমি বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করতে পারি না। চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করে বিল সাবমিট করে থাকতে পারেন। আমরা যে নাম্বার পেয়েছি, সেখানেই বিল দিয়েছি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া সুলতানা কেয়া বলেন, বিকাশ নাম্বার কীভাবে পরিবর্তন হলো এটা পিআইও কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।
আরও পড়ুন: প্রবাসীর স্ত্রীর পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, আটক তিন
সরকার দেশে উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে ও পিছিয়ে পড়া অতিদরিদ্র কর্মহীন শ্রমিকদের কর্মমুখী করতে কর্মসৃজন প্রকল্প কর্মসূচি (ইজিপিপি) বাস্তবায়ন করে। কর্মসূচির আওতায় থাকা অতিদরিদ্র শ্রমিকদের দিয়ে গ্রামীণ সড়ক রাস্তা ঘাট সংরক্ষণ করানো হয়। এ থেকে অসহায় শ্রমিকরা কর্মমুখী হন, তাদের পরিবারের আর্থিক সচলতা আসে।
একাত্তর/আরএ
