সুন্দরবনে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। তবে চিরাচরিত উৎসবের আমেজ নেই উপকূলীয় মৌয়াল পল্লীগুলোতে। বাঘ বা কুমিরের ভয়ের চেয়েও এখন মৌয়ালদের কাছে বড় আতঙ্কের নাম ‘বনদস্যু’। দস্যু বাহিনীর চড়া চাঁদাবাজি আর অপহরণের ভয়ে বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না অধিকাংশ মৌয়াল। ফলে চলতি মৌসুমে মধু উৎপাদন ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনে প্রায় ১৩০০ মৌয়াল রয়েছেন। এ বছর ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২ কুইন্টাল মোম আহরণের মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বছর মৌসুম শুরুর আগেই যেখানে ৩০-৪০টি বিএলসি (বোট লোয়ারিং সার্টিফিকেট) সংগ্রহ করা হতো, সেখানে মঙ্গলবার পর্যন্ত শরণখোলা স্টেশন থেকে মাত্র ৭টি নৌকায় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
মৌয়ালদের অভিযোগ, সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে অন্তত ছয়টি বনদস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা ইতোমধ্যে মৌয়ালপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করে দিয়েছে। অর্থাৎ ৬টি বাহিনীকে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তবেই বনে ঢুকতে হবে। চাঁদা না দিলে অপহরণ ও নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে মোবাইলের মাধ্যমে।
চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৌয়াল আনোয়ার আকন ও মিজান হাওলাদার জানান, নৌকা প্রস্তুত করা ও বনবিভাগের রাজস্বসহ তিন মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। এরপর যদি ডাকাতকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়, তবে ঘরে ফেরার উপায় থাকবে না। তাই পরিস্থিতি বুঝে তারা বনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
মধু ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ডাকাতের ভয়ে মৌয়ালরা যোগাযোগ করছে না। মধু আহরণ কম হলে বাজারে দাম অনেক বেড়ে যাবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।
পূর্ব সুন্দরবন বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী দস্যু তৎপরতার কথা স্বীকার করে বলেন, দস্যু দমনে কম্বিং অপারেশন চালানো হলেও আশানুরূপ সফলতা আসছে না। প্রতিনিয়ত জেলে অপহরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে মৌয়ালদের নিরাপত্তা দিতে বনবিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উপকূলীয় অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক মধুর সরবরাহ ঠিক রাখতে দ্রুত দস্যু দমনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
কাজি ডাকতেই বর উধাও, বিয়ের দাবিতে কলেজছাত্রীর অনশন