সকালে গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়েছিলেন গলাচিপার কৃষক আবুল বাশার হাং (৪০)। এসময় তিনি সাপের দংশনের শিকার হন। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে শরীর যখন আর পেরে উঠলো না তখন শরণাপন্ন হন এক কবিরাজের। সেখানে চলে ঝাড়-ফুক। কিন্তু ততোক্ষণে গড়িয়েছে অনেকটা সময়। বাশারের সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে সাপের বিষ। করিরাজখানায় অচেতন হয়ে পড়লে তাকে নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের ছোট চর কাজল গ্রামে অবহেলায় ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। মৃত কষক ওই গ্রামের জয়নাল হাওলাদারের ছেলে।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নোমান পারভেজ বলেন, সাপে কাটলে যতো দ্রুত সম্ভব সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ সাপ বিষহীন হলেও অবশিষ্ট পাঁচ শতাংশ সাপ মারাত্মক বিষাক্ত। সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে এলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকে এখনও কবিরাজ বা ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করেন, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
তিনি জানান, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। ওই কৃষক শেষের কাজটি শুরুতে করলে প্রাণে বেঁচে যেতেন।
