কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে প্রাণ গেল এক বাংলাদেশি শিশুর। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এসে বসতঘরে লাগলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওই এলাকার জসিম উদ্দিনের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি হোয়াইক্যং লম্বাবিলের হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল চৌধুরী জানান, শনিবার গভীর রাত থেকে এই গোলাগুলি শুরু হয়। চলে ভোর পর্যন্ত। সংঘর্ষে আহত আরাকান আর্মির সদস্যদের বাংলাদেশের মধ্যে ঢুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত চারদিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। শনিবার রাত ১১টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে তোতারদ্বীপ এলাকায় ভারী অস্ত্র ও গোলার বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এপারের জনপদ।
সকাল ৯টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। এ সময় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে। সংঘর্ষ চলার সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি গুলি টেকনাফের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার জসিম উদ্দিনের বসতঘরে এসে লাগে। এ সময় বাড়ির সামনে অবস্থানরত শিশু পুতুনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। গুরুতর আহত পুতুনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়ার পর মারা যায়।

ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, খবর পেয়ে পুলিশ-বিজিবি-র্যাব ও এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা তাদের বাধা দেয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা টেকনাফ সড়কের খেয়াঘাট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলি চললেও শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়। গোলার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে সীমান্ত এলাকার অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে: রিজওয়ানা