আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ—অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, লঞ্চ সঙ্কট এবং নাব্য সমস্যার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। মেঘনার ডুবোচর আর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝনদীতে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ঘাট হয়ে এই নৌপথটি দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি জেলার মানুষের জন্য যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও শতাধিক যানবাহন এই রুটে চলাচল করে। তবে শুকনো মৌসুমে রহমতখালী চ্যানেলে নাব্য সঙ্কটের কারণে ভাটার সময় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে। ফলে অনেক সময় মাঝনদীতে লঞ্চ আটকে পড়লে যাত্রীদের জোয়ারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি ঈদেই এই ভোগান্তি বাড়বে।

এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে পুঁজি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। মজুচৌধুরীর হাট ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী তাজল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত ভাড়া ১৮০ টাকা হলেও ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সামনেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে লঞ্চ ছাড়ছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম থেকে আসা মেহেন্দীগঞ্জের যাত্রী সফিকুর রহমান জানান, যে রুটে আগে ভাড়া ছিল ৪৫০ টাকা, এখন সেখানে ৫৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। লঞ্চের সংখ্যা কম হওয়ায় এই সুযোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কেবিন সঙ্কট ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে নারী ও শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
লঞ্চ মালিকপক্ষ বলছে, নাব্য সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) লক্ষ্মীপুরের সহকারী পরিচালক শাহ আলম জানান, ঈদ উপলক্ষে এই রুটে ১৫ মার্চ থেকে ছয়টি সি-ট্রাক চালু করা হয়েছে। প্রতিটি সি-ট্রাকে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, নির্ধারিত লোডলাইন অনুযায়ী যাত্রী তোলার পরই নৌযান ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে কাজ করছে।
যদিও যাত্রীদের দাবি, ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই।
