নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি আদায়ের লক্ষে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলার ইউএনও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষসহ ১৪ জন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তারা অবরুদ্ধ রয়েছেন।
অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ ছিদ্দীকী, (এনডিসি), সদস্য (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) (অ:দা:) আকরামুজ্জামান, প্রধান হিসাবরক্ষক এবং প্রকল্প পরিচালক (অ:দা:) সুকুমার চন্দ্র সাহা, প্রকল্প পরিচালক (অ:দা:), মো. আইয়ুব আলী, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (রক্ষণাবেক্ষণ) মো. সাইফুল হক, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফারজানা আলম, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার, নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হকসহ ১৪ জন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী জানান, তাঁত বোর্ডের অধীন থেকে বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় তাদের কলেজ স্থানান্তরিত করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকবার ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা-সমাবেশ পরে মানববন্ধন করেছেন। দাবি বাস্তবায়নে একাধিকবার আশ্বাস দিয়েও তা পূরণ করা হয়নি। তাই আজ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
এদিকে অবরুদ্ধ হওয়া কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ও কলেজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকল্পে একটি সভা করতে কলেজে আসেন। সভা করতে সবাই একটি রুমে মিটিং করা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবিতে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এখানে ভর্তি হওয়ার পর টেক্সটাইল কলেজের নিয়ম অনুযায়ী যেসব শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো করার কথা তা না করে ডিপ্লোমা শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে দফায় দফায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, এই কলেজটি দেশের আরও ৯টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মতো পরিচালনা করতে হবে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা কর্তৃপক্ষ করছেনা।

তাদের অভিযোগ, এখানে বিএসসি কোর্সে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় ৩২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু তারা কিছুই শিখতে পারছেনা। এখানকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় তার অধিনস্ত জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের পাঠদান করাচ্ছেন। এই সুবিধা পাওয়ায় তিনি এখানকার শিক্ষার্থীদের দাবি সত্ত্বেও কলেজটি বস্ত্র অধিদপ্তরে দিতে নারাজ। যার কারণে সর্বশেষ এক দফা দাবিতে এসব কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।
তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক ডেপুটি স্পিকার টুকুর জামিন নাকচ