সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় জন শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এই তালিকায় আছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩০)।
তিনি উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের আকন্দ বাড়ির হযরত আলীর ছেলে। জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেস ওয়েটার পদে কর্মরত ছিলেন। কাজ করেছে ১১ বছরে বেশি।
পরিবার জানায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন মেজো। বড়ো ভাই মো. মোস্তফা প্রবাসী এবং ছোট ভাই মো. শাহিন মিয়া বাড়িতে কৃষিকাজ করেন।
স্ত্রী আর তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইরফানকে রেখে দেশ ছেড়েছিলেন জাহাঙ্গীর। তার মৃত্যুর খবরে যখন বাড়ির উঠোনজুড়ে শুধুই হাহাকার তখন বাবার আদর কী, তা বোঝার আগেই পিতৃহারা হলো ছোট্ট ইরফান।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক খুদে বার্তায় এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানা যায়।
আইএসপিআর জানায়, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় জন শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং অন্তত আট জন আহত হন। হামলার পরও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। এখনও অস্থিতিশীল পুরো এলাকা।
বাবা হযরত আলী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, এক মাস আগে ছেলে মিশনে গেছে। সে যাওয়ার সময় বলেছে- তার ছেলেকে যেন দেখে শুনে রাখি। অসুস্থ হওয়ায় আমাকে কাজ কম করতে বলেছে।
মা পালিমা বেগম বলেন, আমার বাবাকে এনে দেন। গতকালকে রাত থেকে কাঁদতে কাঁদতে আমার বাবাকে খুঁজতেছি, আমার বাবাকে এনে দেন। স্ত্রী রুবাইয়া আক্তারের কণ্ঠে ছিলো শুধু কান্না।
নিহতের ফুফাতো ভাই হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সুরুজ মিয়া জানান, গতকাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমন হামলার ঘটনা জানতে পেরে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। এর কিছুক্ষণ পরেই তার সঙ্গের একজন ফোন দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা জানায়। আসলে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়। তবে দেশের হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দেওয়া গর্বের।
পাকুন্দিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, ঘটনা শোনার পরই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।
সুদানে চলমান সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের অধীনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
