সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অজুহাতে গণপিটুনিতে (মব জাস্টিস) ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম (৩৮) নামের এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (তৃতীয় আদালত) নুসরত জাহানের খাস কামরায় উপস্থিত হয়ে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তি দেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত ১০টার দিকে আদালতের নির্দেশে তাঁকে সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে এবং পেশায় একজন মোটরসাইকেল চালক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম থেকে ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের আইনি জটিলতা ও পুলিশি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর দিলে পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, রোববার রাতে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বয়ান দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি ফজলুল দাবি করেন, নিহত শামীম নাস্তিক ছিলেন এবং তাঁকে সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না; ঘটনাটি ‘দুর্ঘটনাবশত’ ঘটে গেছে। জবানবন্দিতে আমিনী আরও উল্লেখ করেন, আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর বিচারে তিনি কী, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় তিনি এই নৃশংস গণপিটুনির ঘটনার পেছনে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের নামও পুলিশের কাছে উন্মোচন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান শামীমকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এই নির্মম ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে ফজলুল হক আমিনীকে ১ নম্বর প্রধান আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতিপূর্বে এজাহারভুক্ত ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
